সাধারণ জ্ঞান • Literature, arts and culture • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন
8.
(ক) তোমার এইচ, এস, সি পরীক্ষার পূর্বরাতের একটি দিনলিপি লেখ।অথবা,(খ) 'পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ'-এ শিরোনামে প্রতিবেদন রচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-লিখিত কাল্পনিক নমুনা। প্রশ্নে না-দেওয়া নাম, তারিখ, যোগাযোগ, সংখ্যা ও জরিপ/সাক্ষাৎকারের বিবরণ উদাহরণভিত্তিক অনুমান; বাস্তবে তথ্যসংগ্রহ করা হয়েছে এমন দাবি নয়।
(ক) এইচএসসি পরীক্ষার পূর্বরাতের দিনলিপি:
তারিখ: ২৯ জুন, ২০২৫
সময়: রাত ১১:৩০ মিনিট
স্থান: ঢাকা
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এইচএসসি পরীক্ষার পূর্বরাত্রি উপস্থিত হলো। কাল সকাল দশটায় জীবনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা—বাংলা প্রথম পত্র। মনের মধ্যে এক অদ্ভুত আলোড়ন কাজ করছে—একদিকে যেমন কিছুটা ভয় ও শঙ্কা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির ফল প্রকাশের আনন্দ ও প্রতীক্ষা।
সারাটা দিন কেটেছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর দ্রুত পুনরাবৃত্তি (revision) করে। সন্ধ্যার পর থেকেই মা-বাবা মানসিক সাহস দিচ্ছেন। বাবা বারবার মনে করিয়ে দিলেন শান্ত মস্তিষ্কে প্রশ্ন পড়ে উত্তর লেখার কথা। আর মা পরম মমতায় খাবার খাইয়ে আশীর্বাদ করলেন। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র—প্রবেশপত্র (Admit Card), রেজিস্ট্রেশন কার্ড, কলম, পেনসিল, স্কেল প্রভৃতি গুছিয়ে ফাইলবন্দি করে রেখেছি, যেন সকালে কোনো তাড়াহুড়ো বা বিভ্রাট না ঘটে।
এখন টেবিল ছেড়ে শুতে যাওয়ার পালা। নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত ও শান্ত রাখাই এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করি, আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম যেন সার্থক হয় এবং আগামীকালের পরীক্ষা যেন সুন্দর ও নির্বিঘ্নে শেষ করতে পারি।
অথবা,
(খ) প্রতিবেদন:
তারিখ: ৩০ জুন, ২০২৫
বরাবর,
অধ্যক্ষ,
যশোর সরকারি সিটি কলেজ, যশোর।
বিষয়: 'পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ' শীর্ষক প্রতিবেদন।
জনাব,
আপনার আদেশ অনুসারে 'পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ' শীর্ষক একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন নিম্নে উপস্থাপন করছি:
পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ
ভূমিকা:
বৃক্ষ প্রকৃতির এক অমূল্য দান। মানুষের অস্তিত্ব, সুস্থ পরিবেশ এবং পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখার জন্য বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং নির্বিচার বৃক্ষনিধনের ফলে আজ বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর মারাত্মক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা:
১. অক্সিজেন সরবরাহ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ: বৃক্ষ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং বায়ুমণ্ডলে প্রাণদায়ী অক্সিজেন নির্গমন করে বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় ভারসাম্য ঠিক রাখে।
২. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: বৃক্ষ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমিয়ে রাখে এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাব কমিয়ে পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী রাখে।
৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমন: বৃক্ষের শিকড় মাটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রেখে ভূমিধস ও ভূমিক্ষয় রোধ করে। উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা কমিয়ে দেয়।
৪. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ: বনাঞ্চল কোটি কোটি পশু-পাখি ও কীটপতঙ্গের নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষায় প্রধান নিয়ামক।
বর্তমান সংকট ও বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা:
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশের মোট আয়তনের অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে উষ্ণতা বাড়ছে, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি এবং খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঠেকাতে এখনই ব্যাপকভিত্তিক বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা অপরিহার্য।
সুপারিশমালা:
১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়কের দুই ধার, নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে ফলজ, বনজ ও ভেষজ বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
২. সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিকে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করা।
৩. নির্বিচারে বৃক্ষনিধন কঠোর আইনের মাধ্যমে দমন করা।
৪. প্রতি বছর জাতীয় বৃক্ষমেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ পালন করে ছাত্র-ছাত্রী ও সর্বস্তরের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।
উপসংহার:
বৃক্ষহীন পৃথিবী মানেই মানবজাতির ধ্বংস। তাই সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বার্থে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে সবুজ ও শ্যামলময় করে গড়ে তুলতে হবে। "একটি গাছ কাটলে অন্তত তিনটি গাছ লাগান"—এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমাদের বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে হবে।
প্রতিবেদকের নাম: রাকিবুল হাসান
শ্রেণি: দ্বাদশ (বিজ্ঞান বিভাগ), রোল: ১০১
যশোর সরকারি সিটি কলেজ, যশোর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও