সাহিত্য পাঠ • অপরিচিতা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
উচ্চ শিক্ষিত যুবক শফিক তার পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে একটি শব্দও বলে না। তার বিয়ের আসরে বরপক্ষ হঠাৎ অতিরিক্ত নগদ টাকার দাবি করে। কনের বাবা আসাদ সাহেব এই ঘটনায় অত্যন্ত ব্যথিত হন। তিনি বুঝতে পারেন, যারা অর্থের লোভে এমন আচরণ করে, তাদের পরিবারে তার মেয়ে নিরাপদ নয়। তিনি লোকভয় তুচ্ছ করে এ বিয়ে ভেঙে দেন। এতকিছুর পরেও শফিক নির্বিকার হয়ে বসে থাকে। কনে রাবেয়া বাবার এই সাহসিকতা সমর্থন করে নিজেকে সমাজসেবা ও ব্রতচারী হিসেবে গড়ে তোলে।
- ক)(1)
“সুপুরুষ বটে!” — কে?
- খ)(2)
“আমার ভাগ্যে প্রজাপতির সঙ্গে পঞ্চশরের কোনো বিরোধ নাই।” — তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শফিকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? কীভাবে?
- ঘ)(4)
“আসাদ সাহেবের বলিষ্ঠ প্রত্যাখ্যান এবং রাবেয়ার ব্যক্তিত্বের স্ফুরণই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রকৃত প্রতিবাদ।” — উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের আলোকে মন্তব্যের যাথার্থ্য মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘অপরিচিতা’ গল্প অনুসারে সুপুরুষ হলেন অনুপম।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটির মাধ্যমে অনুপমের বিয়ের সম্বন্ধের অনুকূল পরিস্থিতি এবং তার মনের রোমান্টিক আকর্ষণের মেলবন্ধনকে বোঝানো হয়েছে।
হিন্দু পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী ‘প্রজাপতি’ হলেন বিয়ের দেবতা এবং ‘পঞ্চশর’ বা মদন হলেন প্রেমের দেবতা। অনুপম যখন বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল, তখন তার বিয়ে চূড়ান্ত হওয়ার পাশাপাশি তার মনে এক অজানা নারীর প্রতি অনুরাগ বা প্রণয়ের ব্যাকুলতা তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ, বিয়ের দেবতার উদ্যোগের সাথে প্রেমের দেবতার কোনো সংঘাত ছিল না; বরং দুটোই পরস্পরের অনুকূলে কাজ করছিল বলেই অনুপম এ মন্তব্যটি করেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শফিকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কথক ও কেন্দ্রীয় চরিত্র অনুপমের সাদৃশ্য রয়েছে। ব্যক্তিত্বহীনতা ও পরিবারের অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করার নিষ্ক্রিয়তার দিক থেকে তাদের মধ্যে এ মিল ফুটে উঠেছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম উচ্চশিক্ষিত যুবক হওয়া সত্ত্বেও স্বকীয় ব্যক্তিত্ব ও মেরুদণ্ডহীন এক চরিত্র ছিল। তার পরিবারে মামার সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। বিয়ের আসরে যখন মামা শম্ভুনাথ সেনের কাছে কনের গয়না খাঁটি কি না তা যাচাই করার মতো চরম অপমানজনক আচরণ করেন, তখনও অনুপম নির্বিকার পুতুলের মতো বসে থাকে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার কোনো সাহস বা সংকল্প তার ছিল না।
উদ্দীপকের শফিকও একইভাবে উচ্চশিক্ষিত যুবক হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের প্রভাবের বাইরে নিজস্ব মতামত প্রকাশের ক্ষমতা রাখে না। বিয়ের আসরে বরপক্ষ অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত যৌতুক দাবি করার পর কনের বাবার তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সময়েও শফিক নিশ্চুপ ও নির্বিকার থাকে। অন্যায়ের মুখে এই ধরনের মেরুদণ্ডহীন নিষ্ক্রিয়তা অনুপম চরিত্রের সাথেই শফিকের গভীর সাদৃশ্য নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“আসাদ সাহেবের বলিষ্ঠ প্রত্যাখ্যান এবং রাবেয়ার ব্যক্তিত্বের স্ফুরণই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রকৃত প্রতিবাদ।” — মন্তব্যটি উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যথার্থ।
আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় কনেপক্ষকে হীন ও বরপক্ষকে আধিপত্যকামী হিসেবে গণ্য করা হয়ে আসছে। বিয়েতে যৌতুক বা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে কনেপক্ষকে জিম্মি করার হীন মানসিকতা সেই পুরুষতান্ত্রিক শোষণেরই একটি রূপ। এই শোষণ ও অপমানকে নিঃশব্দে মেনে নেওয়ার সংস্কৃতিকে ভেঙে ফেলতে প্রয়োজন আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন প্রতিরোধ।
‘অপরিচিতা’ গল্পে দেখা যায়, অনুপমের মামা যৌতুকের লোভ ও সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বিয়ের আসরেই স্যাকরা ডেকে কল্যাণীর অলংকার পরীক্ষা করতে চান। কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন কন্যার আত্মমর্যাদার কথা ভেবে সমাজের লোকনিন্দা বা তথাকথিত মর্যাদাহানির ভয় না করে তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে ভেঙে দেন। পরবর্তীতে কল্যাণীও নিজের স্বাধীন ব্যক্তিত্বের স্বাক্ষর রাখে; সে বিয়ে না করে দেশমাতৃকার সেবা ও নারীশিক্ষার ব্রত গ্রহণ করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকেও অনুরূপ চিত্র দেখা যায়। বিয়ের আসরে বরপক্ষ হঠাৎ অতিরিক্ত নগদ টাকা দাবি করলে কনের পিতা আসাদ সাহেব মেয়ের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও আত্মসম্মানের কথা ভেবে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন। অন্যদিকে কন্যা রাবেয়াও পিতার সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেকে সমাজসেবা ও ব্রতচারী হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।
অতএব, কনেপক্ষের ওপর বরপক্ষের অনৈতিক দাবিকে রুখে দিতে আসাদ সাহেবের বলিষ্ঠ প্রত্যাখ্যান এবং রাবেয়ার আত্মনির্ভরশীলতার পথ বেছে নেওয়া মূলত পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক উজ্জ্বল প্রতিবাদ। তাই প্রদত্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও