অর্থনীতি ২য় পত্র • মুদ্রাস্ফীতি • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
আরিফের দেশে বিগত কয়েকমাস যাবৎ পণ্যদ্রব্যের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে সেখানে ব্যাংক হার বৃদ্ধি ঋণের রেশনিং প্রগতিশীল হারে আয়কর আরোপ এবং অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হ্রাসের ফলে দেশটি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সাফল্য লাভ করেছে। বিগত দু'বছরে দেশটির বাজার পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
| ভোগ্য দ্রব্যের নাম | পরিমাণ (কেজি) | ২০২৩ সাল দাম (টাকা) | ২০২৪ সাল দাম (টাকা) |
|---|---|---|---|
| লবণ | ৩ | ৩০ | ৪০ |
| চাল | ৪ | ৫০ | ৬০ |
| আটা | ৮ | ৪০ | ৫০ |
- ক)(1)
মুদ্রাস্ফীতি কী?
- খ)(2)
সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উপরে উল্লিখিত সূচি হতে আরিফের দেশের ২০২৪ সালের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত উপায় ব্যতীত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার আর কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে সামগ্রিক যোগানের তুলনায় সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দ্রব্যের দামস্তরের ক্রমাগত ও দীর্ঘকালীন বৃদ্ধিকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকার যখন অনুৎপাদনশীল খাত কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নে অতিরিক্ত ব্যয় করে, তখন সমাজে অর্থের যোগান ও জনগণের আর্থিক আয় বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এই বর্ধিত ব্যয়ের সাথে সাথে স্বল্পমেয়াদে দ্রব্যের উৎপাদন বা যোগান বাড়ে না। ফলে জনগণের সামগ্রিক চাহিদা যোগানের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়, যা বাজারে পণ্যদ্রব্য ও সেবার দামস্তর বৃদ্ধি করে মুদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী:
ভিত্তিবছর (২০২৩) এবং চলতি বছর (২০২৪)-এর মোট ব্যয় নির্ণয় করা হলো:১. ২০২৩ সালের মোট ব্যয় ():
লবণ: ৩ কেজি × ৩০ টাকা = ৯০ টাকা
চাল: ৪ কেজি × ৫০ টাকা = ২০০ টাকা
আটা: ৮ কেজি × ৪০ টাকা = ৩২০ টাকা
অতএব, ২০২৩ সালের মোট ব্যয় () = ৯০ + ২০০ + ৩২০ = ৬১০ টাকা।২. ২০২৪ সালের মোট ব্যয় ():
লবণ: ৩ কেজি × ৪০ টাকা = ১২০ টাকা
চাল: ৪ কেজি × ৬০ টাকা = ২৪০ টাকা
আটা: ৮ কেজি × ৫০ টাকা = ৪০০ টাকা
অতএব, ২০২৪ সালের মোট ব্যয় () = ১২০ + ২৪০ + ৪০০ = ৭৬০ টাকা।ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI):
২০২৪ সালের
ভিত্তিবছর ২০২৩-এরঅতএব, ২০২৪ সালের মুদ্রাস্ফীতির হার:
মুদ্রাস্ফীতির হার =
(অথবা, সরাসরি মোট ব্যয়ের বৃদ্ধির হার = )সুতরাং, আরিফের দেশের ২০২৪ সালের মুদ্রাস্ফীতির হার ২৪.৫৯%।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক 'ব্যাংক হার বৃদ্ধি' ও 'ঋণের রেশনিং' এবং সরকার কর্তৃক 'প্রগতিশীল হারে আয়কর আরোপ' ও 'অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হ্রাস' করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এগুলি ছাড়াও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে:
১. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য পদক্ষেপ (আর্থিক নীতি):
- খোলা বাজারে ঋণপত্র বিক্রয়: কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলা বাজারে সরকারি সিকিউরিটিজ বা বন্ড বিক্রয় করে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ তুলে নিয়ে অর্থ সরবরাহ হ্রাস করতে পারে।
- জমার অনুপাত বৃদ্ধি (CRR ও SLR বৃদ্ধি): বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বাধ্যতামূলক জমার অনুপাত বাড়িয়ে দিলে তাদের ঋণদানের ক্ষমতা হ্রাস পায়, যা ঋণ সংকোচন করে মুদ্রাস্ফীতি কমায়।
- নৈতিক প্ররোচনা: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণ প্রদান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিতে পারে।
২. সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপ (রাজস্ব ও প্রত্যক্ষ নীতি):
- প্রত্যক্ষ করের আওতা বৃদ্ধি ও নতুন কর আরোপ: জনগণের হাতে থাকা উদ্বৃত্ত ক্রয়ক্ষমতা কমাতে বিভিন্ন ভোগপণ্যের ওপর কর বা সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করা যায়।
- অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণ: সরকার জনগণের কাছ থেকে জাতীয় সঞ্চয়পত্র ও বন্ড বিক্রির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করে বাজার থেকে অতিরিক্ত তারল্য প্রত্যাহার করতে পারে।
- উৎপাদন ও যোগান বৃদ্ধি: কৃষি ও শিল্প খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রণোদনা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক হ্রাস করে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মজুতদারি প্রতিরোধ: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ, টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত উপায়গুলো ছাড়াও উল্লেখিত আর্থিক, রাজস্ব ও প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কার্যকরভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও