‍ইতিহাস ১ম পত্র • ব্রিটিশ শাসন ও প্রতিরোধ আন্দোলন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

বহরমপুরের জমিদার ছিলেন অত্যন্ত স্বেচ্ছাচারী। যে কোনো অজুহাতে অন্যের জমি দখল করতে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। কোনো কৃষক নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলে তিনি ঐ কৃষকের সম্পত্তি দখল করে নিতেন। দত্তক সন্তানের অধিকার তিনি স্বীকার করতেন না। তবে স্বেচ্ছাচারী হলেও তিনি ছিলেন শিক্ষিত ও আধুনিকমনা। তিনি সমাজ, প্রশাসন ও শিক্ষাক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কারমূলক কাজ করেন।

  1. ক)

    ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    সূর্যাস্ত আইন কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জমিদারের নীতির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নীতির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর উল্লিখিত শাসকের সংস্কারসমূহ ছিল জনকল্যাণমুখী? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার একটি অন্যতম শর্ত ছিল 'সূর্যাস্ত আইন'। এই আইন অনুসারে, নির্দিষ্ট তারিখের সূর্যাস্তের পূর্বে জমিদারদের নির্ধারিত রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হতো। নির্ধারিত সময়ে রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে জমিদারের জমিদারি বাজেয়াপ্ত বা নিলামে বিক্রি করে বকেয়া রাজস্ব আদায় করা হতো।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জমিদারের নীতির সাথে ভারতের ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসির 'স্বত্ববিলোপ নীতি'র (Doctrine of Lapse) সাদৃশ্য রয়েছে।
    লর্ড ডালহৌসি ১৮৪৮ সালে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন। এ নীতি অনুযায়ী, কোনো দেশীয় রাজা বা শাসক নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তার দত্তক পুত্র রাজ্য বা সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী হতে পারত না। ফলে সেই রাজ্যটি সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হতো।
    উদ্দীপকের জমিদারের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, তিনি কোনো কৃষক নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলে তার সম্পত্তি দখল করে নিতেন এবং দত্তক সন্তানের অধিকার স্বীকার করতেন না। ডালহৌসির স্বত্ববিলোপ নীতির মূল ধারণার সাথে জমিদারের এই আচরণের হুবহু মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শাসক লর্ড ডালহৌসির সংস্কারসমূহ বহুলাংশে আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী ছিল।
    লর্ড ডালহৌসি সাম্রাজ্যবাদী শাসক হিসেবে পরিচিত হলেও আধুনিক ভারতের রূপায়ণে তিনি যুগান্তকারী সংস্কার সাধন করেন।
    প্রথমত, তিনি ভারতে রেলপথ ও টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং আধুনিক ডাকব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৮৫৩ সালে বোম্বে থেকে থানে পর্যন্ত প্রথম যাত্রীবাহী রেল চালু হয়, যা যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব আনে।
    দ্বিতীয়ত, সামাজিক ক্ষেত্রে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবাবিবাহ আইন পাস করেন। এছাড়া কন্যাশিশুর সুরক্ষা ও নরবলি রোধে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেন।
    তৃতীয়ত, শিক্ষা ক্ষেত্রে চার্লস উডের শিক্ষা সংক্রান্ত সুপারিশ (উডস ডেসপ্যাচ, ১৮৫৪) কার্যকর করার উদ্যোগ নেন, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ভারতীয় আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
    পরিশেষে বলা যায়, সাম্রাজ্য বিস্তার তার মূল উদ্দেশ্য হলেও তার প্রশাসনিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত সংস্কারগুলো ভারতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন