কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্র ২টি লক্ষ্য কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
চিত্র-১: তুলার পোকা আক্রান্ত ফল
চিত্র-২: আঁখের রোগাক্রান্ত কাণ্ড
- ক)(1)
ধানের একটি ক্ষতিকারক পোকার নাম লেখ।
- খ)(2)
কমলা চাষ লাভজনক কেন?
- গ)(3)
চিত্র-১ এ প্রদর্শিত তুলার পোকাটির ক্ষতির নমুনা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
চিত্র-২ এর প্রদর্শিত আঁখের রোগটি দমনে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধানের একটি ক্ষতিকারক পোকার নাম হলো মাজরা পোকা (বা বাদামি গাছফড়িং)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কমলা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল, যা প্রচুর ভিটামিন 'সি' ধারণ করে। বাজারে সারাবছর কমলার উচ্চ চাহিদা ও ভালো বাজারমূল্য থাকে। এছাড়া পাহাড়ি ও উঁচু জমিতে কমলার ফলন ভালো হয় এবং একবার বাগান প্রতিষ্ঠা করলে বহু বছর ধরে ফল পাওয়া যায়। অল্প খরচে অধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব হওয়ায় কমলা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্র-১ এ প্রদর্শিত তুলার পোকাটি হলো তুলার বোলওয়ার্ম বা গুটি পোকা (আমেরিকান বোলওয়ার্ম বা স্পটেড বোলওয়ার্ম)।
তুলার বোলওয়ার্ম পোকার ক্ষতির নমুনা নিম্নরূপ:
১. এ পোকার কীড়া কচি পাতা, কুঁড়ি, ফুল ও ফল (বোল) ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভেতরের অংশ খেয়ে ফেলে।
২. আক্রান্ত কুঁড়ি ও ফুল ঝরে পড়ে যায়।
৩. পোকাটি তুলার বোলের মধ্যে প্রবেশ করে ভেতরের তুলার আঁশ ও বীজ খেয়ে নষ্ট করে।
৪. ছিদ্রের মুখে পোকার মল লেগে থাকে এবং বৃষ্টির পানি ঢুকে ফলের ভেতরে পচন ধরায়, যার ফলে তুলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় এবং ফলন ব্যাপকভাবে কমে যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্র-২ এ প্রদর্শিত আঁখের রোগটি হলো আঁখের লাল পচা রোগ (Red rot of sugarcane)। এটি কোলটোট্রিকাম ফ্যালকাটাম (Colletotrichum falcatum) নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে।
এ রোগ দমনে যেসব কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার: সুস্থ ও রোগমুক্ত আঁখের কাণ্ড থেকে বীজ নির্বাচন করতে হবে। রোগাক্রান্ত ক্ষেত থেকে বীজ সংগ্রহ করা যাবে না।
২. বীজ শোধন: রোপণের পূর্বে বীজখণ্ডকে উষ্ণ পানিতে (৫০° সে. তাপমাত্রায় ২-২.৫ ঘণ্টা) অথবা অনুমোদিত ছত্রাকনাশক (যেমন—ব্যভিস্টিন বা কার্বেনডাজিম দ্রবণ) দ্বারা শোধন করতে হবে।
৩. রোগ প্রতিরোধী জাতের চাষ: রোগ প্রতিরোধী বা সহনশীল আঁখের জাত (যেমন—ঈশ্বরদী জাতের উন্নত আঁখ) চাষ করতে হবে।
৪. আক্রান্ত গাছ অপসারণ ও ধ্বংস: জমিতে রোগাক্রান্ত গাছ দেখা মাত্রই তা শিকড়সহ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে যাতে ছত্রাকের জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
৫. ফসল পর্যায় বা শস্য পর্যায় অবলম্বন: একই জমিতে বারবার আঁখ চাষ না করে শস্য পর্যায় অনুসরণ করতে হবে।
৬. ক্ষেতের নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা: জমিতে পানি জমে থাকলে রোগের প্রকোপ বাড়ে, তাই সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৭. মুড়ি আঁখ চাষ পরিহার: রোগাক্রান্ত ক্ষেতে পরবর্তী মৌসুমে মুড়ি আঁখ চাষ করা যাবে না।অতএব, যথাযথ প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার রোধ করে আঁখের ক্ষতি কমানো সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও