ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

ইয়াবার বৈধতা নিয়ে হারুন ও আলীমের মধ্যে আলোচনা চলছিল। সামাদ বলল, ইয়াবা বৈধ। কারণ কুরআন এবং হাদিসে কোথাও ইয়াবা নিষিদ্ধের কথা নেই। অন্যদিকে আলীম বলল, ইয়াবা অবৈধ। কারণ মদের মধ্যে যে বৈশিষ্ট্য আছে। ইয়াবার মধ্যেও তা আছে। দুজনের কথা শুনে ইমাম সাহেব বললেন, আলীমের কথাই সঠিক। কেননা মহান আল্লাহ বলেন—“হে বিচক্ষণ জ্ঞানিগণ! তোমরা গভীর চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর।”

  1. ক)

    হাসান বসরী কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    “কিয়াসের ইল্লত সুস্পষ্ট হওয়া আবশ্যক”—ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    আলীমের বক্তব্যটি ইসলামি শরিয়তের কোন উৎসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আয়াতের প্রায়োগিক দিক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাসান বসরী (রহ.) ছিলেন একজন বিশিষ্ট তাবেয়ী, প্রখ্যাত ফকিহ, মুহাদ্দিস এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সুফি সাধক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কিয়াস হলো কুরআন ও সুন্নাহর বিধানের মূল কারণ (ইল্লত)-এর ভিত্তিতে নতুন সমস্যার সমাধান নির্ণয় করা। কিয়াসের সঠিকতার জন্য 'ইল্লত' বা কারণটি সুস্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট এবং অপরিবর্তনীয় হওয়া আবশ্যক। যদি কারণটি অস্পষ্ট বা অনুমাননির্ভর হয়, তবে তার ওপর ভিত্তি করে সঠিক হুকুম বা বিধান নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই কিয়াসের নির্ভুলতার স্বার্থেই ইল্লত সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য হতে হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আলীমের বক্তব্যটি ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস 'কিয়াস'-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    কিয়াস হলো কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট বিধান নেই এমন কোনো নতুন বিষয়ের বিধান, একই কারণ বা ইল্লতের ভিত্তিতে পূর্ববর্তী কোনো প্রমাণিত বিধানের ওপর তুলনা করে নির্ধারণ করা। উদ্দীপকে আলীম ইয়াবাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন কারণ এতে মদের মতো মাদকতা ও ক্ষতিকর প্রভাব বিদ্যমান। এখানে মূল কারণ বা ইল্লত হলো মাদকতা (নেশাগ্রস্ততা), যা কুরআন-হাদিসে নিষিদ্ধ মদের সাথে মিলে যায়।

    সুতরাং, মদের নিষিদ্ধতার ইল্লতের সাথে মিল রেখে ইয়াবার অবৈধতার সিদ্ধান্ত দেওয়ায় আলীমের বক্তব্যটি কিয়াসের নিয়ম অনুসরণ করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আয়াতটি সূরা আল-হাশরের ২ নম্বর আয়াত, যেখানে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন— "অতএব হে চক্ষুষ্মান/বিচক্ষণ ব্যক্তিগণ! তোমরা উপদেশ বা শিক্ষা গ্রহণ কর (গভীর চিন্তা-ভাবনা করো)।"

    এই আয়াতটির মাধ্যমে ইসলামি শরিয়তে বুদ্ধি, বিবেক ও যুক্তি প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা মূলত কিয়াস এবং ইজতিহাদের ভিত্তি। ইসলাম একটি গতিশীল জীবনব্যবস্থা। যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে মানবজীবনে বহু নতুন পরিস্থিতি ও সমস্যার উদ্ভব ঘটে, যার প্রত্যক্ষ বা শাব্দিক সমাধান হয়তো কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্টভাবে উল্লিখিত নেই। কিন্তু আল্লাহ তাআলা মানুষকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়েছেন যাতে তারা বিদ্যমান মূলনীতির আলোকে চিন্তা-ভাবনা করে নতুন সমস্যার সমাধান করতে পারে।

    উদ্দীপকে ইয়াবার মতো আধুনিক মাদককে কিয়াসের মাধ্যমে অবৈধ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব এই আয়াতের আলোকে সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেছেন। অতএব, জীবন ও সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে শরিয়তের মূল কাঠামোর ভেতরে থেকে গভীর চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়াই এই আয়াতের প্রায়োগিক দিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন