কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

কবির সাহেবের ৫০০ মুরগির একটি শেয়ার ফার্ম আছে। একদিন সকালে তিনি লক্ষ করলেন কিছু মুরগি ঘরের কোণায় ঝিমুচ্ছে। মুরগির মল সাদা চুনের মতো ও তাতে সবুজ-হলুদ মিশ্রণ। শাখা, ঘাড় ও পা পক্ষাঘাতগ্রস্ত। এ সমস্যা সমাধানে একজন পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তিনি বললেন যে, তার খামার মারাত্মক রোগে আক্রান্ত। রোগ নিরাময়ের জন্য প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য যা করণীয় তা তিনি বুঝিয়ে দিলেন।

  1. ক)

    খাঁকি ক্যাম্পবেল কী?

    (1)
  2. খ)

    খাঁচায় মুরগি পালন লাভজনক কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    কবির সাহেবের খামারের মুরগি কোন রোগে আক্রান্ত! লক্ষণ সাপেক্ষে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত রোগটি পোল্ট্রি শিল্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ- ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খাঁকি ক্যাম্পবেল হলো ইংল্যান্ডের ক্যাম্পবেল জাতের একটি অত্যন্ত ডিম উৎপাদনশীল উন্নত হাঁসের জাত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খাঁচায় মুরগি পালন লাভজনক কারণ এতে অল্প জায়গায় অধিক সংখ্যক মুরগি পালন করা যায়, রোগজীবাণুর বিস্তার কম হয় এবং খাদ্য অপচয় রোধ পায়। এছাড়া মুরগির ডিম সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ সহজ হয় এবং উৎপাদন খরচ কমে সার্বিক মুনাফা বৃদ্ধি পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কবির সাহেবের খামারের মুরগিগুলো 'রানিখেত' (Ranikhet) রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

    লক্ষণ সাপেক্ষে ব্যাখ্যা:
    ১. উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে আক্রান্ত মুরগিগুলো ঘরের কোণে ঝিমুচ্ছে, যা রানিখেত রোগের একটি প্রধান লক্ষণ।
    ২. মুরগির মল সাদা চুনের মতো এবং সবুজ-হলুদ মিশ্রিত হওয়া রানিখেতের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ডায়রিয়ার লক্ষণ।
    ৩. ভাইরাসের আক্রমণে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে মুরগির ডানা বা শাখা, ঘাড় ও পা অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

    এসব লক্ষণ নিশ্চিত করে যে কবির সাহেবের খামারে প্যারামিক্সোভাইরাসজনিত সংক্রামক রানিখেত রোগ দেখা দিয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'রানিখেত' রোগটি পোল্ট্রি শিল্পের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক ও ঝুঁকিপূর্ণ।

    নিম্নোক্ত কারণগুলোর প্রেক্ষিতে এটি স্পষ্ট হয়:
    ১. উচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার: রানিখেত একটি তীব্র সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগে খামারে মৃত্যুর হার প্রায় ৮০-১০০% পর্যন্ত হতে পারে। অতি দ্রুত এটি এক মুরগি থেকে অন্য মুরগিতে এবং আশপাশের খামারে ছড়িয়ে পড়ে।
    ২. ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি: হঠাৎ করে খামারের অধিকাংশ মুরগি মারা যাওয়ায় খামারি এক লহমায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। এতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়।
    ৩. উৎপাদন বিপর্যয়: ব্রয়লারের দৈহিক বৃদ্ধি পুরোপুরি স্থবির হয়ে যায় এবং লেয়ার মুরগির ডিম উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় বা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
    ৪. নির্দিষ্ট চিকিৎসার অভাব: এটি ভাইরাসঘটিত রোগ হওয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর নির্দিষ্ট কোনো কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক বা নিরাময়কারী ঔষধ নেই। ফলে কেবল টিকাদান ও প্রতিরোধই একমাত্র উপায়।

    অতএব, আকস্মিক মহামারি আকার ধারণ করার ক্ষমতা এবং বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকির কারণে রানিখেত রোগ পোল্ট্রি শিল্পের টিকে থাকা ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে চরম হুমকিস্বরূপ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন