ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • ব্যবস্থাপনার ধারণা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

চিত্রটি পর্যবেক্ষণ করো:

  1. ক)

    ব্যবস্থাপনা কী?

    (1)
  2. খ)

    'ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' স্থানে ব্যবস্থাপনার কোন কাজ করতে হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকেব্যস্থাপনার 'খ'স্থানের কাজেরসাথে পরিকল্পনার তুলনামূলক বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন, সংগঠিতকরণ, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমন্বয়সাধন ও নিয়ন্ত্রণের সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যবস্থাপনা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা বলতে বোঝায়—ব্যবস্থাপনার নিয়ম-নীতি ও কার্যাবলি সব ধরনের দলবদ্ধ কর্মপ্রচেষ্টায় সমভাবে প্রযোজ্য।

    গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের মতে, "ব্যবস্থাপনা একটি সর্বজনীন বিষয়"। কেবল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেই নয়, বরং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সামাজিক সংগঠন এমনকি রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক যেকোনো সংস্থায় নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা, সংগঠন, নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম অপরিহার্য। ক্ষেত্রভেদে প্রয়োগের ধরন আলাদা হতে পারে, কিন্তু ব্যবস্থাপনার মৌলিক নীতিমালা সর্বত্রই কার্যকর। এ কারণেই ব্যবস্থাপনাকে সর্বজনীন বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' স্থানে ব্যবস্থাপনার 'সংগঠিতকরণ' বা 'সংগঠন' (Organizing) কাজ করতে হয়।

    ব্যবস্থাপনা চক্রের ধারাবাহিকতায় পরিকল্পনার ঠিক পরবর্তী কাজটি হলো সংগঠিতকরণ। প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য বা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ চিহ্নিতকরণ, সেগুলোকে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করা, দায়িত্ব ও ক্ষমতা বণ্টন এবং মানবীয় ও বস্তুগত উপকরণের মধ্যে সমন্বিত সম্পর্ক স্থাপন করাই হলো সংগঠন।

    উদ্দীপকের ব্যবস্থাপনা চক্রের প্রবাহ নির্দেশক তীরচিহ্ন লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এটি একটি চক্রাকার আবর্তন। পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে 'ক' চিহ্নিত স্থানটি রয়েছে, যার পরে রয়েছে কর্মীসংস্থান। ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক ক্রম অনুযায়ী পরিকল্পনার পরেই সংগঠন এবং তার পরে কর্মীসংস্থান আসে। সুতরাং, উদ্দীপকের 'ক' স্থানে ব্যবস্থাপনার সংগঠিতকরণ কাজটি করতে হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ব্যবস্থাপনার 'খ' স্থানে নির্দেশিত কাজটি হলো 'নিয়ন্ত্রণ' (Controlling)। নিচে পরিকল্পনার সাথে নিয়ন্ত্রণের তুলনামূলক বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ধারণাগত বৈসাদৃশ্য: ভবিষ্যতে কী করা হবে, কখন ও কীভাবে করা হবে তা আগে থেকে নির্ধারণ করাই হলো পরিকল্পনা। অন্যদিকে, গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা, বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করা এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাই হলো নিয়ন্ত্রণ।

    ২. প্রক্রিয়ায় অবস্থান: পরিকল্পনা হলো ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার সর্বপ্রথম বা প্রারম্ভিক ধাপ। পক্ষান্তরে, নিয়ন্ত্রণ হলো ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার সর্বশেষ বা চূড়ান্ত ধাপ।

    ৩. সময় সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি: পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভবিষ্যৎমুখী বা অগ্রমুখী (Forward-looking), কারণ এটি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য কার্যক্রম নিয়ে কাজ করে। অপরদিকে, নিয়ন্ত্রণ প্রধানত অতীতমুখী বা পশ্চাৎমুখী (Backward-looking), কারণ এটি সম্পাদিত কাজের ফলাফলকে পূর্বে নির্ধারিত মানের সাথে তুলনা করে।

    ৪. ভিত্তি ও প্রকৃতির পার্থক্য: পরিকল্পনা প্রণীত হয় প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উদ্দেশ্যকে ভিত্তি করে। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে পরিকল্পনার ওপর নির্ভরশীল; কারণ পরিকল্পনায় নির্ধারিত মানদণ্ড না থাকলে নিয়ন্ত্রণের কোনো ভিত্তি থাকে না।

    ৫. সংশোধনমূলক ব্যবস্থা: পরিকল্পনায় কেবল কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা ও কর্মসূচি তৈরি হয়, কিন্তু সেখানে বিচ্যুতির কোনো প্রত্যক্ষ সংশোধনের উপাদান থাকে না। পক্ষান্তরে, নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো কার্যক্রমের বিচ্যুতি নির্ণয় ও তা সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া।

    অতএব, পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনার ভিত্তি স্থাপন করে ভবিষ্যতের পথ দেখায় এবং নিয়ন্ত্রণ সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ভুলত্রুটি দূর করে কার্যকারিতা নিশ্চিত করে। উভয়ের উদ্দেশ্য এক হলেও কার্যাবলি ও দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে তাদের মাঝে সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন