অর্থনীতি ২য় পত্র • আন্তর্জাতিক বাণিজ্য • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: মি. 'M' গলদা চিংড়ি ইউরোপসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে রপ্তানি করে। আবার চীন থেকে লৌহজাত দ্রব্য আমদানি করে। ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ উপকৃত হয়। দৃশ্যকল্প-২: মি. 'N' নওগাঁ হতে চট্টগ্রাম ও সিলেটে চাল বিক্রি করে। ফলে বাংলাদেশে চালের দাম প্রায় একই থাকে।
- ক)(1)
FDI-এর পূর্ণরূপ লেখো।
- খ)(2)
'একাধিক দ্রব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভিত্তি'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প দুইটির বাণিজ্যের ধরন যুক্তি সহকারে উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১ অনুযায়ী একটি দেশের সম্পদের যথাযথ ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত হয়? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
FDI-এর পূর্ণরূপ হলো Foreign Direct Investment (প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি দেশ যদি বিশ্বের সব দ্রব্য উৎপাদনেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হতো বা একই দ্রব্য সব দেশে সমপরিমাণ উৎপাদন হতো, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রয়োজন পড়ত না। প্রতিটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, জলবায়ু, প্রযুক্তি ও শ্রমদক্ষতার তারতম্যের কারণে ভিন্ন ভিন্ন দ্রব্য উৎপাদনে তুলনামূলক ব্যয়-সুবিধা বিদ্যমান থাকে। একটি দেশ যে দ্রব্য তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন করতে পারে তা বিদেশে রপ্তানি করে এবং যেসব দ্রব্য উৎপাদনে খরচ বেশি তা আমদানি করে। ফলে একাধিক দ্রব্যের পারস্পরিক বিনিময় ও বিভিন্ন দ্রব্যের চাহিদাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং দৃশ্যকল্প-২ এ অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ধরন প্রতিফলিত হয়েছে।
যুক্তি:
১. দৃশ্যকল্প-১ এ মি. 'M' বাংলাদেশ থেকে ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে গলদা চিংড়ি রপ্তানি করেন এবং চীন থেকে লৌহজাত দ্রব্য আমদানি করেন। যেহেতু এই লেনদেনটি দুই বা ততোধিক সার্বভৌম স্বাধীন দেশের ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে সংগঠিত হয়েছে এবং ভিন্ন ভিন্ন মুদ্রা ও শুল্ক নিয়মের অধীনে পরিচালিত হয়, তাই এটি বৈদেশিক বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য (International Trade)।২. দৃশ্যকল্প-২ এ মি. 'N' বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ একটি জেলা (নওগাঁ) থেকে অন্য দুটি জেলায় (চট্টগ্রাম ও সিলেট) চাল বিক্রি করেন। যেহেতু এই লেনদেনটি একই দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে একই মুদ্রা, আইন ও বাজার ব্যবস্থার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে, তাই এটি অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য (Internal Trade)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদের কাম্য ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. তুলনামূলক সুবিধা অর্জন: বাংলাদেশ গলদা চিংড়ি উৎপাদনে প্রাকৃতিক ও শ্রমশক্তির দিক থেকে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ শ্রম ও প্রাকৃতিক সম্পদকে চিংড়ি চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে নিয়োজিত করে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করছে।
২. অনগ্রসর খাতের ব্যয় সাশ্রয়: চীন লৌহজাত ও ভারী শিল্পজাত দ্রব্য উৎপাদনে প্রযুক্তিগতভাবে অধিক দক্ষ। বাংলাদেশ নিজে উচ্চব্যয়ে লৌহজাত দ্রব্য উৎপাদন না করে চীন থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে তা আমদানি করছে। ফলে অপ্রয়োজনীয় খাতে অভ্যন্তরীণ সম্পদের অপচয় রোধ হচ্ছে।
৩. উদ্বৃত্ত সম্পদের ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণ: দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার অতিরিক্ত গলদা চিংড়ি নষ্ট না হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করে।
৪. প্রযুক্তি ও মূলধনি দ্রব্যের প্রাপ্যতা: আমদানিকৃত লৌহজাত দ্রব্য দেশের অবকাঠামো নির্মাণ ও শিল্পায়নে সহায়তা করে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।
অতএব, দৃশ্যকল্প-১ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রতিটি দেশ তার অধিক সুবিধাপ্রাপ্ত খাতে সম্পদের সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও