সমাজকর্ম ২য় পত্র • সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
লিপি ও আপন ভালো বন্ধু। পারিবারিক ও সামাজিক স্বীকৃতির মাধ্যমে তারা বিশেষ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের মধ্যকার এ সামাজিক বন্ধনই সাধারণত স্থায়িভাবে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- ক)(1)
পরিবার কী?
- খ)(2)
গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি কোন সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে এবং নৈতিক অবক্ষয় রোধে উক্ত প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অনন্য"- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবার হলো বিবাহ ও রক্ত বা দত্তক সূত্রের ভিত্তিতে গঠিত এমন একটি মৌলিক ক্ষুদ্র সামাজিক সংগঠন, যেখানে সদস্যরা সাধারণ বাসস্থান ও পারস্পরিক দায়িত্ব-কর্তব্যের মাধ্যমে একত্রে বসবাস করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণমাধ্যম সমাজের বাস্তব চিত্র, বিভিন্ন সমস্যা, অন্যায়-অসংগতি এবং ইতিবাচক অগ্রগতিকে কোনো বিকৃতি ছাড়াই জনগণের সামনে সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে বলে একে 'সমাজের দর্পণ' বলা হয়। যেমন দর্পণে নিজের চেহারা হুবহু দেখা যায়, তেমনি সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও বা অনলাইন গণমাধ্যমের মাধ্যমে পুরো সমাজের সার্বিক অবস্থা ও জনমত প্রতিবিম্বিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'বিবাহ' (Marriage)-কে ইঙ্গিত করেছে।
সমাজবিজ্ঞানে বিবাহ হলো এমন একটি সামাজিকভাবে ও আইনগতভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে দুজন বিপরীত লিঙ্গের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্থায়ীভাবে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করে এবং পরিবার গঠনের ভিত্তি তৈরি করে। উদ্দীপকে লিপি ও আপনের পারিবারিক ও সামাজিক স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশেষ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা বিবাহের সুনির্দিষ্ট রূপ। বিবাহই মূলত ব্যক্তির যৌনজীবনকে সুশৃঙ্খল করে এবং সমাজে নারী ও পুরুষের সম্পর্কের স্থায়ী আইনি ও সামাজিক ভিত্তি দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে এবং নৈতিক অবক্ষয় রোধে উক্ত প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অনন্য"—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রতিষ্ঠানটি হলো 'বিবাহ'। সমাজজীবনে এর ইতিবাচক ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. যৌন জীবনের শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা রক্ষা: বিবাহ নারী ও পুরুষের যৌন সম্পর্ককে সামাজিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও বৈধতা দেয়। এর ফলে অবাধ যৌনাচার, পরকীয়া ও যৌনবাহিত রোগের মতো মারাত্মক সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
২. নৈতিক অবক্ষয় রোধ: বিবাহ সমাজে নীতিহীন আচরণ এবং স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করে ব্যক্তির মধ্যে নৈতিক শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক দায়িত্বশীলতা গড়ে তোলে।
৩. পরিবারের ভিত্তি ও সন্তান প্রতিপালন: বিবাহের মাধ্যমেই পরিবারের সূচনা হয়, যা সন্তানের সামাজিকীকরণ, সুশিক্ষা ও সঠিক মূল্যবোধ গঠনে সাহায্য করে। সঠিক পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা সন্তান অপরাধ ও নৈতিক বিচ্যুতি থেকে দূরে থাকে।
৪. সামাজিক স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা: বিবাহ দুটি ভিন্ন পরিবার ও বংশের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন সৃষ্টি করে সমাজের সংহতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে।সুতরাং বলা যায়, বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানটি না থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলা, অবাধ যৌনাচার ও নৈতিক অধঃপতন দেখা দিত। তাই সামাজিক সমস্যা ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে বিবাহ একটি অনন্য ও অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও