জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব : রক্ত ও সঞ্চালন • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

মানুষের চার সপ্তাহ বয়সের ভ্রূণে একটি অঙ্গে স্পন্দন শুরু হয় (Ref: Langman, Human Embryology) এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সারাজীবন চলতে থাকে।

  1. ক)

    ব্যারো রিসেপ্টর কী?

    (1)
  2. খ)

    শোথের (edema) কারণ কী?

    (2)
  3. গ)

    উল্লিখিত অঙ্গটির লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি অনিয়মিত হলে কৃত্রিম যন্ত্রের সাহায্যে কীভাবে আবার স্বাভাবিক রাখা যায়— আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাণিদেহের রক্ত সংবহনতন্ত্রের রক্তনালির প্রাচীরে অবস্থিত যে বিশেষ সংবেদনশীল স্নায়ুপ্রান্ত রক্তচাপের হ্রাস-বৃদ্ধি বা পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে, তাকে ব্যারোরিসেপ্টর (Baroreceptor) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শোথ বা ইডিমা (Edema) হলো শরীরের কলাসমূহের অন্তর্বর্তী স্থানে অতিরিক্ত তরল সঞ্চিত হয়ে ফুলে যাওয়া অবস্থা। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
    ১. কৈশিক জালিকার ভেদ্যতা বৃদ্ধি এবং কৈশিক নালির হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ বৃদ্ধি পেলে তরল রক্তনালি থেকে কলার ফাঁকে বের হয়ে আসে।
    ২. রক্তরসে অ্যালবুমিন জাতীয় প্রোটিনের অভাব ঘটলে রক্তরসের কলয়েড অসমোটিক চাপ হ্রাস পায়, ফলে তরল রক্তে ফিরে আসতে পারে না।
    ৩. লসিকা সংবহন নালি অবরুদ্ধ হলে (Lymphatic obstruction) কলার ফাঁক থেকে অতিরিক্ত তরল নিষ্কাশিত হতে পারে না।
    ৪. কিডনির নিষ্কাশন ক্ষমতা কমে গিয়ে দেহে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও পানি জমা হওয়া এবং হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতা (Heart failure)-র কারণেও শোথ সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো মানুষের হৃৎপিণ্ড (Heart)।

    [পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা: এখানে মানুষের হৃৎপিণ্ডের লম্বচ্ছেদের একটি স্পষ্ট ও পরিষ্কার চিত্র অঙ্কন করতে হবে।]

    চিত্রটিতে নিম্নলিখিত অংশগুলো সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে:
    ১. ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ
    ২. ডান নিলয় ও বাম নিলয়
    ৩. আন্তঃঅলিন্দ পর্দা ও আন্তঃনিলয় পর্দা
    ৪. রক্তনালিসমূহ: ঊর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরার প্রবেশপথ, পালমোনারি ধমনি, পালমোনারি শিরা ও অ্যাওর্টা (মহাধমনি)
    ৫. কপাটিকাসমূহ: ট্রাইকাসপিড কপাটিকা, বাইকাসপিড কপাটিকা (মাইট্রাল কপাটিকা) এবং সেমিলুনার কপাটিকাসমূহ (অ্যাওর্টিক ও পালমোনারি কপাটিকা)
    ৬. হৃৎপ্রাচীর: মায়োকার্ডিয়াম, এন্ডোকার্ডিয়াম এবং কর্ডা টেন্ডিনি ও প্যাপিলারি পেশি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত স্বয়ংক্রিয় স্পন্দন প্রক্রিয়াটি হলো হৃৎস্পন্দন বা কার্ডিয়াক চক্র। হৃৎপিণ্ডের ছন্দপতন বা স্পন্দন অনিয়মিত হলে (যেমন- অ্যারাইথমিয়া বা হার্ট ব্লক) কৃত্রিম যন্ত্র 'পেসমেকার' (Artificial Pacemaker) স্থাপনের মাধ্যমে তা আবার স্বাভাবিক রাখা যায়। নিচে এর কার্যপ্রণালী আলোচনা করা হলো:

    ১. গঠন: কৃত্রিম পেসমেকারে একটি লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত কম্পিউটারাইজড জেনারেটর এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সেন্সিং/পেসিং তার বা 'লিড' (leads) থাকে।

    ২. স্থাপন প্রক্রিয়া: স্থানীয় চেতনানাশক প্রয়োগের মাধ্যমে সাধারণত বুকের বাম বা ডান পাশের ত্বক কেটে সাবক্ল্যাভিয়ান শিরার মধ্য দিয়ে পেসমেকারের লিডটি হৃৎপিণ্ডের নির্দিষ্ট প্রকোষ্ঠে (সাধারণত ডান অলিন্দ ও/অথবা ডান নিলয়ে) প্রবেশ করিয়ে জেনারেটরের সাথে সংযুক্ত করা হয়।

    ৩. কার্যপদ্ধতি:
    ক) হৃৎস্পন্দন পর্যবেক্ষণ (Sensing): পেসমেকারের সেন্সরযুক্ত তারগুলো সার্বক্ষণিক হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ও স্পন্দন পর্যবেক্ষণ করে।
    খ) বৈদ্যুতিক সংকেত প্রেরণ (Pacing): যখন হৃৎপিণ্ডের নিজস্ব প্রাকৃতিক পেসমেকার (SA Node) ব্যর্থ হয় বা হৃৎস্পন্দন বিপজ্জনক মাত্রায় ধীর বা অনিয়মিত হয়ে পড়ে, তখন কৃত্রিম পেসমেকার অবিলম্বে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা প্রেরণ করে।
    গ) মায়োকার্ডিয়াম সংকোচন: এই সংকেত হৃৎপেশিতে পৌঁছালে নিলয় সংকুচিত হয় এবং হৃৎপিণ্ডে একটি নিয়মিত ও সঠিক ছন্দময় স্পন্দন ফিরে আসে। আধুনিক ডিমান্ড পেসমেকার শরীরের চাহিদা অনুযায়ী (যেমন- বিশ্রামে বা ব্যায়ামের সময়) সংকেতের হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করতে সক্ষম।

    অতএব, কৃত্রিম পেসমেকার স্থাপনের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন স্বাভাবিক ও নিয়মিত রেখে মানবজীবন রক্ষা করা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন