ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • খুলাফায়ে রাশেদিন (৬৩২-৬৬১ খ্রি.) • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
ঘটনা-১ : ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতবর্ষে অসংখ্য মাজার গড়ে উঠে, যা মুসলমানদের শিরকের দিকে ধাবিত করতে থাকে। এই মাজারগুলোকে কেন্দ্র করে ভণ্ড পীরদের আস্তানা গড়ে উঠে। যারা মাজারে শায়িত দরবেশের আধ্যাত্মিক ক্ষমতার গুণকীর্তন করে বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জন করে। মূলত এরা ছিল মাজার পূজারী ও ধর্মব্যবসায়ী।
ঘটনা-২ : ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে আধুনিক বিশ্বের গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলা হয়। তাদের আইনসভাটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। উচ্চ কক্ষ হাউজ অব কমন্স, নিম্নকক্ষ হাউজ অব লর্ডস। মূলত হাউজ অব কমন্সে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেন। অপরদিকে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত হাউজ অব লর্ডসের সদস্যগণ দেশের সার্বিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে সুচিন্তিত মতামত দেন।
- ক)(1)
খোলাফায়ে রাশেদীন কারা?
- খ)(2)
রিদ্দার যুদ্ধ কেন সংঘটিত হয়? ব্যাখ্যা কর。
- গ)(3)
ভারতবর্ষের মাজারপ্রেমিক গোষ্ঠীর সাথে খলিফা আবু বকর (রা.) এর শাসনামলের কাদের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ঘটনা-২ এর আলোকে হযরত ওমর (রা.) প্রবর্তিত মজলিশ-উশ-শুরার গঠন ও কার্যপরিধির সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলিম জাহানের শাসনভার গ্রহণকারী চারজন ন্যায়পরায়ণ খলিফাকে (হযরত আবু বকর, হযরত ওমর, হযরত ওসমান ও হযরত আলী) সামগ্রিকভাবে 'খোলাফায়ে রাশেদীন' বা সত্যপথপ্রাপ্ত খলিফাগণ বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবি (সা.)-এর ওফাতের পর আরবের কিছু গোত্র ইসলাম ত্যাগ করে স্বধর্মত্যাগী (মুরতাদ) হয়, মিথ্যা নবুওয়াত দাবি করে কিংবা যাকাত দিতে অস্বীকার করে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। নবপ্রতিষ্ঠিত ইসলামি রাষ্ট্রের ঐক্য ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং ইসলামের ধর্মীয় বিধানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) এই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন, যা ইসলামের ইতিহাসে 'রিদ্দার যুদ্ধ' বা স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ভারতবর্ষের ভণ্ড পীর ও ধর্মব্যবসায়ী মাজারপ্রেমিক গোষ্ঠীর সাথে খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলের মিথ্যা নবুওয়াত দাবিদার ও ধর্মভ্রষ্ট বিদ্রোহীদের মিল রয়েছে।
হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মৃত্যুর পর আরবে ভণ্ড ও স্বার্থান্বেষী কিছু লোক নিজেদের নবি দাবি করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে থাকে। এদের মধ্যে মুসায়লামা, তুলয়হা, আসওয়াদ আনসি এবং সাজাহ অন্যতম। তারা ধর্মকে ব্যবহার করে পার্থিব সুযোগ-সুবিধা ও নেতৃত্ব হাসিলের চেষ্টা করেছিল।
উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ দেখা যায়, ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠা মাজারগুলোকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির ভণ্ড পীর সাধারণ মুসলমানদের শিরকের পথে পরিচালিত করে এবং মাজার পূজার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে ধর্মব্যবসায় মেতে ওঠে। ইসলামের মূল শিক্ষার বিকৃতি ঘটিয়ে স্বার্থ হাসিলের এই কর্মকাণ্ডের সাথে হযরত আবু বকর (রা.)-এর সময়ের ধর্মদ্রোহী ও মিথ্যা নবুওয়াত দাবিদারদের স্পষ্ট মিল পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘটনা-২ এ বর্ণিত ব্রিটিশ আইনসভার সাথে হযরত ওমর (রা.) প্রবর্তিত 'মজলিশ-উশ-শুরা' বা পরামর্শ সভার গঠন ও কার্যপরিধির মধ্যে কিছু মৌলিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
সাদৃশ্য:
১. উভয় ব্যবস্থারই মূল ভিত্তি পরামর্শ ও গণতান্ত্রিক আলোচনা। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মতো হযরত ওমর (রা.)-এর মজলিশ-উশ-শুরাও দুটি কক্ষে বিভক্ত ছিল—মজলিশ-ই-খাস (উচ্চ পরিষদ) এবং মজলিশ-ই-আম (সাধারণ পরিষদ)।
২. মজলিশ-ই-খাসে বিশিষ্ট ও প্রবীণ সাহাবিগণ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও নীতিগত বিষয়ে সুচিন্তিত পরামর্শ দিতেন, যার সাথে উদ্দীপকে উল্লেখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত 'হাউজ অব লর্ডস'-এর মিল রয়েছে। আবার বৃহত্তর মজলিশ-ই-আমের মাধ্যমে সাধারণ ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো, যা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের 'হাউজ অব কমন্স'-এর চেতনার অনুরূপ।বৈসাদৃশ্য:
১. উদ্দীপকের ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্স একটি নির্বাচিত আইনসভা এবং এটি সার্বভৌম আইনের উৎস। অন্যদিকে ওমরি শুরা কোনো আইন প্রণয়নকারী সংসদ ছিল না; এটি ছিল পরামর্শক পরিষদ। কারণ ইসলামি রাষ্ট্রে চূড়ান্ত আইনের উৎস হলো কুরআন ও সুন্নাহ।
২. উদ্দীপকে হাউজ অব কমন্সকে উচ্চকক্ষ এবং হাউজ অব লর্ডসকে নিম্নকক্ষ বলা হলেও বাস্তবে কমন্স নিম্নকক্ষ ও লর্ডস উচ্চকক্ষ। তাছাড়া ব্রিটিশ পার্লামেন্টের লর্ডস বংশানুক্রমিক ও মনোনীত সদস্যদের নিয়ে গঠিত, কিন্তু হযরত ওমর (রা.)-এর শুরা সদস্যদের যোগ্যতা নির্ধারিত হতো তাকওয়া, প্রজ্ঞা ও ইসলামের প্রতি তাদের অবদানের ভিত্তিতে।সুতরাং, শুরার মূল চেতনা গণতান্ত্রিক আলোচনার অনুরূপ হলেও এর প্রকৃতি, গঠন ও কর্তৃত্ব ব্রিটিশ আইনসভার চেয়ে স্বতন্ত্র ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও