সমাজকর্ম ২য় পত্র • সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমাজ সংস্কারে উদ্বুদ্ধ করে, সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষা করে এবং ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। ওই প্রতিষ্ঠানের অনুপ্রেরণাই হলো সমাজকল্যাণের মূল চালিকাশক্তি।

  1. ক)

    মুসলিম পারিবারিক আইন প্রণীত হয় কত সালে?

    (1)
  2. খ)

    আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলতে কী বোঝায়??

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি মানবকল্যাণে কি ভূমিকা রাখতে পারে তা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সর্বশেষ উক্তিটির সাথে তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ সালে প্রণীত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, আইনের শাসন বজায় রাখা এবং অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে আইন প্রয়োগ করে থাকে, সেগুলোকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলে। যেমন—পুলিশ, র‍্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ইত্যাদি। এ সংস্থাগুলো নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে কাজ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সামাজিক প্রতিষ্ঠানটি হলো 'ধর্ম'। উদ্দীপকে বলা হয়েছে—যা সমাজ সংস্কারে উদ্বুদ্ধ করে, সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষা করে এবং ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে; এগুলো মূলত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

    মানবকল্যাণে ধর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:
    ১. নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সৃষ্টি: ধর্ম মানুষকে সৎ, সত্যবাদী, পরোপকারী ও সহানুভূতিশীল হতে শিক্ষা দেয়, যা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
    ২. সামাজিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্ব: ধর্ম বর্ণ ও শ্রেণিবৈষম্য দূর করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে মানুষের মাঝে গভীর ঐক্য গড়ে তোলে।
    ৩. দানশীলতা ও সেবামূলক কাজ: প্রায় সকল ধর্মেই গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করার নির্দেশনা রয়েছে (যেমন—ইসলামে যাকাত, সাদাকা; হিন্দুধর্মে দান; খ্রিষ্টধর্মে দাতব্য কর্মকাণ্ড)। এগুলো সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবকল্যাণ সাধনে প্রত্যক্ষ অবদান রাখে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সর্বশেষ উক্তিটি হলো—"ওই প্রতিষ্ঠানের অনুপ্রেরণাই হলো সমাজকল্যাণের মূল চালিকাশক্তি"। আমি এই উক্তির সাথে সম্পূর্ণ একমত।

    প্রাচীনকাল থেকেই ধর্মের অনুপ্রেরণাই মূলত সমাজকল্যাণের ভিত্তি বা মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিম্নরূপ:
    ১. ঐতিহাসিকভাবে সমাজকল্যাণের সূচনা: আধুনিক পেশাদার সমাজকর্মের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর আদি রূপ ছিল ধর্মীয় অনুপ্রেরণায় পরিচালিত মানবসেবা বা দানশীলতা। ইসলাম, খ্রিষ্টধর্ম, বৌদ্ধধর্ম ও হিন্দুধর্মসহ প্রতিটি প্রধান ধর্মই দরিদ্র, অনাথ, পঙ্গু ও আর্তপীড়িতদের সেবাকে ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে গণ্য করেছে।
    ২. সামাজিক দায়বদ্ধতা: ধর্মের শিক্ষা থেকেই ধনীরা তাদের অতিরিক্ত সম্পদ সামাজিক কল্যাণে বিলিয়ে দেওয়ার প্রেরণা পায়। যেমন—ইসলামে যাকাত, ওয়াক্‌ফ এবং অন্যান্য ধর্মে দাতব্য ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিদ্যালয়, হাসপাতাল, সরাইখানা ইত্যাদি গড়ে তোলা হয়েছে।
    ৩. মানবিক মূল্যবোধ ও সেবার মনোভাব: ধর্ম মানুষের ভেতর নিঃস্বার্থভাবে অপরের কল্যাণে কাজ করার আন্তরিক চেতনা তৈরি করে। মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করাই সমাজকল্যাণের মূল দর্শন, যা ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকেই বিকশিত হয়েছে।

    অতএব, সামগ্রিক বিশ্লেষণে বলা যায় যে ধর্মের অনুপ্রেরণাই যুগ যুগ ধরে সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন