ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.) • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি প্রথমে নবাবের পক্ষেই ছিল। কিন্তু নবাবের সেনাবাহিনীর একজন সুদক্ষ সৈনিক কিছু সংখ্যক সৈন্যসহ যুদ্ধের ময়দান থেকে সরে পড়েন। ফলে নবাবের বাহিনী কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। তারপরও নবাব বাহিনী যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিলেন। যুদ্ধ বিরতি শুরু হয়। বিরতির পর নবাব বাহিনীর অধিনায়ক দলের প্রত্যেকে যার যার অবস্থানে থেকে সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে উৎসাহ প্রদান করেন। নবাব বাহিনী যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে তখন কিছু সংখ্যক সৈনিক ব্যক্তিগত সুবিধা ও বিজয়ের আনন্দে যুদ্ধে অমনোযোগী হয়ে পড়ে। তাদের এহেন খামখেয়ালীর সুযোগে ইংরেজ বাহিনী কৌশলী আক্রমণের সাহায্যে বিজয় ছিনিয়ে নেয়!

  1. ক)

    আনসার কারা?

    (1)
  2. খ)

    'আল-আমিন' উপাধি দেওয়া হয় কাকে এবং কেন?

    (2)
  3. গ)

    যুদ্ধের ময়দান ত্যাগকারী সৈনিকের সাথে উহুদ যুদ্ধের কোন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    পাঠ্যবইয়ের আলোকে উহুদ যুদ্ধের ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহানবি (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের পর মদিনার যেসব স্থানীয় মুসলমান মক্কার মুহাজিরদের আশ্রয় ও সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করেছিলেন, তাদেরকে 'আনসার' (সাহায্যকারী) বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সত্যবাদিতা, সততা, বিশ্বস্ততা ও চারিত্রিক নিষ্কলুষতার জন্য 'আল-আমিন' (বিশ্বাসী বা আমানতদার) উপাধি দেওয়া হয়েছিল। নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্ব থেকেই তিনি চরম মিথ্যা ও কলুষিত সমাজে সত্যবাদী ও নির্ভরযোগ্য মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, ফলে মক্কার পৌত্তলিক কুরাইশরাও নিঃসংকোচে তাঁর কাছে মূল্যবান ধন-সম্পদ আমানত রাখত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের যুদ্ধের ময়দান ত্যাগকারী সুদক্ষ সৈনিকের সাথে উহুদ যুদ্ধের ভণ্ড নেতা বা মুনাফিক সর্দার আব্দুল্লাহ বিন উবাইয়ের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।

    ৬২৫ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত উহুদ যুদ্ধে মহানবি (সা.) এক হাজার সৈন্য নিয়ে মদিনা থেকে রওয়ানা হয়েছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে মুনাফিক সর্দার আব্দুল্লাহ বিন উবাই তার নিজস্ব ৩০০ অনুসারী নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে যুদ্ধের ময়দান থেকে সরে পড়ে। এর ফলে মুসলিম বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা কমে ৭০০-তে নেমে আসে এবং বাহিনী কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, পলাশীর যুদ্ধে নবাবের বাহিনীর একজন সুদক্ষ সৈনিক কিছু সৈন্যসহ যুদ্ধের ময়দান থেকে সরে পড়লে নবাবের বাহিনী কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এই কর্মকাণ্ডটি উহুদ যুদ্ধের প্রাক্কালে আব্দুল্লাহ বিন উবাইয়ের মুসলিম বাহিনী ত্যাগ করার হীন চক্রান্ত ও কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উহুদ যুদ্ধের ফলাফল ছিল মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয় ও সাময়িক বিপর্যয়ের এক ইতিহাস।

    উহুদ যুদ্ধের শুরুতে মুসলিম বাহিনী অভূতপূর্ব বীরত্ব প্রদর্শন করে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় এবং কুরাইশরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। কিন্তু মহানবি (সা.) জাবালে আইনাইন গিরিপথে ৫০ জন তীরন্দাজকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধজয় বা পরাজয় যাই হোক না কেন তারা যেন স্থান ত্যাগ না করে। যখন মুসলিম বাহিনী জয়ী হচ্ছিল, তখন গণিমতের মালের লোভে এবং বিজয়ের আনন্দে ৪০ জন তীরন্দাজ মহানবি (সা.)-এর নির্দেশ অমান্য করে পাহাড় ত্যাগ করে।

    এই ভুলের সুযোগ নিয়ে কুরাইশদের অশ্বারোহী সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ পিছন দিক থেকে অতর্কিত আক্রমণ করেন। এতে যুদ্ধের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায় এবং মুসলিম বাহিনী চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ৭০ জন সাহাবি শাহাদাতবরণ করেন, যার মধ্যে মহানবি (সা.)-এর চাচা হযরত হামজা (রা.) অন্যতম। মহানবি (সা.) নিজেও গুরুতর আহত হন এবং তাঁর দান্দান মোবারক শহীদ হয়।

    পরিশেষে, উহুদ যুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফল পুরোপুরি কুরাইশদের চূড়ান্ত বিজয় ছিল না, কারণ তারা মদিনা দখল করতে পারেনি। তবে এটি মুসলমানদের জন্য দলনেতার আদেশ অমান্য করা এবং পার্থিব লোভের মারাত্মক পরিণতির এক জ্বলন্ত ঐতিহাসিক শিক্ষা হয়ে রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন