‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন • চট্টগ্রাম কলেজ • চট্টগ্রাম কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

চীনা নাগরিক মি. লিউ বাংলাদেশে বেড়াতে এসে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তাদের ভিন্ন ভিন্ন আদর্শ দেখে মুগ্ধ হন। কিন্তু তার দেশের দল ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে কষ্ট পান। তিনি মনে করেন, অনেক দল থাকার কারণে এ দেশের মানুষ রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন।

  1. ক)

    রাজনৈতিক দল কী?

    (1)
  2. খ)

    সম্মোহনী নেতৃত্ব বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    মি. লিউ-এর দেশে কোন ধরনের দল ব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত মি. লিউ-এর দেশ এবং বাংলাদেশের দল ব্যবস্থার পার্থক্য নিরূপণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাজনৈতিক দল হলো এমন একটি রাজনৈতিক সংগঠন যা নির্দিষ্ট কিছু আদর্শ ও কর্মসূচির ভিত্তিতে সাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নেতার ব্যক্তিগত মোহনীয় ব্যক্তিত্ব, বাগ্মিতা বা অসাধারণ আকর্ষণী ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে যখন জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ও তার আদর্শ অনুসরণ করে, তখন তাকে সম্মোহনী নেতৃত্ব (Charismatic Leadership) বলা হয়। যেমন—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্ব।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মি. লিউ-এর দেশ চীনে 'একদলীয় দল ব্যবস্থা' (One-party system) বিদ্যমান।

    যে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সংবিধাগতভাবে বা কার্যত একটি মাত্র রাজনৈতিক দল কার্যকর থাকে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল গঠন বা কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে, তাকে একদলীয় ব্যবস্থা বলে।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত চীনা নাগরিক মি. লিউ তাঁর দেশের দল ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে কষ্ট পান, কারণ সেখানে বহু দলের চর্চা বা বিকল্প মত প্রকাশের সুযোগ নেই। চীনে মূলত একটি দল—'চীনা কমিউনিস্ট পার্টি' (CCP) সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং রাষ্ট্রের একক শাসক হিসেবে সমস্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে নাগরিকরা সেখানে ভিন্ন ভিন্ন আদর্শের রাজনৈতিক দলের বিকল্প পছন্দ করতে পারে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত মি. লিউ-এর দেশ (চীন) এবং বাংলাদেশের দল ব্যবস্থার মধ্যে প্রকৃতি ও কাঠামোগত মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। নিচে এগুলোর তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ব্যবস্থার ধরন: চীন হলো একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে কেবল কমিউনিস্ট পার্টির আধিপত্য বিদ্যমান। বিপরীতে বাংলাদেশে 'বহুদলীয় ব্যবস্থা' (Multi-party system) বিদ্যমান, যেখানে একাধিক দল সাংবিধানিকভাবে রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

    ২. মতাদর্শগত বৈচিত্র্য ও বিকল্প পছন্দ: একদলীয় ব্যবস্থার কারণে চীনে মতাদর্শিক বৈচিত্র্য ও ভিন্ন দল বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে বিভিন্ন আদর্শের (যেমন- জাতীয়তাবাদী, সমাজতান্ত্রিক, ইসলামি ইত্যাদি) দল রয়েছে এবং নাগরিকরা তাদের পছন্দমতো দলকে সমর্থন করতে পারে।

    ৩. বিরোধী দলের ভূমিকা: চীনে কোনো আনুষ্ঠানিক ও শক্তিশালী বিরোধী দল নেই, ফলে সরকারের জবাবদিহিতা সীমিত। অন্যদিকে বাংলাদেশে বিরোধী দল থাকে, যা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা ও গণতন্ত্র রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

    ৪. রাজনৈতিক সচেতনতা: বহুদলীয় ব্যবস্থার প্রতিযোগিতা ও ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের প্রচারের ফলে বাংলাদেশের নাগরিকরা রাজনীতি সম্পর্কে অধিক সচেতন, যা উদ্দীপকে মি. লিউ নিজেই উপলব্ধি করেছেন। চীনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের কারণে জনগণের মুক্ত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সীমিত।

    অতএব, চীনের একদলীয় কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিপরীতে বাংলাদেশের দল ব্যবস্থা হলো বহুদলীয় ও গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন