মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মস্তিষ্ক কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রতিবর্তী ক্রিয়া কীভাবে সংঘটিত হয়?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এর ‘ক’ হরমোনটি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এর ‘ক’ ও ‘গ’ অংশ থেকে নিঃসৃত হরমোনের কার্যাবলি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    করোটির অভ্যন্তরে সুরক্ষিত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে অংশটি মানুষের চিন্তা, চেতনা, অনুভূতি ও সমস্ত শারীরিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে মস্তিষ্ক বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিবর্তী ক্রিয়া হলো কোনো নির্দিষ্ট উদ্দীপকের প্রভাবে স্বতঃস্ফূর্ত, অনৈচ্ছিক এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া যা মস্তিষ্কের নির্দেশ ছাড়াই মূলত সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হয়।

    প্রতিবর্তী ক্রিয়ার ক্ষেত্রে সংবেদনশীল অঙ্গ (রিসেপ্টর) উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তা অন্তর্বাহী বা সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর মাধ্যমে সুষুম্নাকাণ্ডে প্রেরণ করে। সুষুম্নাকাণ্ডের মধ্যবর্তী বা সংযোগকারী নিউরন থেকে সরাসরি নির্দেশটি বহির্বাহী বা আজ্ঞাবহ স্নায়ুর মাধ্যমে কার্যকরী অঙ্গে (যেমন পেশিতে) পৌঁছে যায়, যার ফলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সংঘটিত হয়। যেমন—হাতে আগুনের ছোঁয়া লাগলে মস্তিষ্ক সচেতন হওয়ার আগেই হাতটি দ্রুত সরে আসে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ এড্রিনাল কর্টেক্স থেকে নিঃসৃত হরমোনগুলোর মধ্যে কর্টিসোল ও কর্টিসোন ছাড়াও অপর প্রধান হরমোনটি হলো ‘অ্যালডোস্টেরন’ (Aldosterone)। অতএব, ‘ক’ নির্দেশিত হরমোনটি হলো অ্যালডোস্টেরন।

    অ্যালডোস্টেরনের কার্যাবলি ও ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. খনিজ ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা: এটি মানবদেহে মূলত সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে কাজ করে।
    ২. তরলের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ: অ্যালডোস্টেরন বৃক্কীয় নালিকায় সোডিয়াম আয়ন ও পানি পুনঃশোষণে সহায়তা করে, যা শরীরের রক্তচাপ এবং রক্তের তরল অংশ (রক্তরস)-এর আয়তন স্বাভাবিক রাখে।
    ৩. আচরণ ও মেজাজের উপর প্রভাব: শরীরে এই হরমোনের ঘাটতি দেখা দিলে দুর্বলতা, অবসাদগ্রস্ততা, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং মানসিক বিষাদ দেখা দিতে পারে। আবার এর অত্যধিক নিঃসরণে শরীরে তরল জমা হয়ে উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

    সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ এর 'ক' হরমোনটি হলো অ্যালডোস্টেরন, যা মানবদেহের পানি ও লবণের ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে অপরিহার্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এর পিটুইটারি গ্রন্থি তিনটি অংশে বিভক্ত—সম্মুখ অংশ (ক), মধ্য অংশ এবং পশ্চাৎ অংশ (গ)। অতএব, ‘ক’ হলো পিটুইটারি গ্রন্থির সম্মুখ অংশ (Anterior Pituitary) এবং ‘গ’ হলো পশ্চাৎ অংশ (Posterior Pituitary)।

    নিচে ‘ক’ ও ‘গ’ অংশ থেকে নিঃসৃত হরমোনের কার্যাবলি বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সম্মুখ অংশ (‘ক’) থেকে নিঃসৃত হরমোনের কার্যাবলি:
    ক. বৃদ্ধি হরমোন বা সোমাটোট্রপিক হরমোন (STH): এটি দেহের সার্বিক শারীরিক গঠন, অস্থি ও পেশির স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। শৈশবে এর অভাবে বামনত্ব (Dwarfism) এবং অতি-নিঃসরণে অতিকায়ত্ব (Gigantism) দেখা দেয়।
    খ. থাইরোট্রপিক হরমোন (TSH): এটি থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে এবং তার হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
    গ. অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH): এটি এড্রিনাল কর্টেক্সের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে মানসিক চাপ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখে।
    ঘ. গোনাডোট্রপিক হরমোন (FSH ও LH): এটি যৌন গ্রন্থিগুলোর (শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়) বৃদ্ধি এবং যৌন হরমোন নিঃসরণ প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে।
    ঙ. প্রোল্যাকটিন (LTH): এটি প্রসবের পর স্তনদুগ্ধ তৈরিতে সহায়তা করে এবং মাতৃসুলভ আচরণ প্রকাশে ভূমিকা রাখে।

    ২. পশ্চাৎ অংশ (‘গ’) থেকে নিঃসৃত হরমোনের কার্যাবলি:
    ক. ভেসোপ্রেসিন বা অ্যান্টি-ডিউরেটিক হরমোন (ADH): এটি বৃক্কে পানির পুনঃশোষণ বৃদ্ধি করে এবং রক্তনালী সংকুচিত করে রক্তচাপ বজায় রাখে। এর অভাবে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস রোগ হয়।
    খ. অক্সিটোসিন: এটি সন্তান প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচন ঘটায় এবং স্তন থেকে দুধ নিঃসরণে সহায়তা করে। এটি স্নেহ, মায়া-মমতা ও সামাজিক বন্ধন সৃষ্টির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

    সার্বিকভাবে, পিটুইটারি গ্রন্থির সম্মুখ ও পশ্চাৎ অংশ থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন হরমোন মানবদেহের শারীরিক বৃদ্ধি, প্রজনন, সংবেদনশীল আচরণ এবং জৈবিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রধান নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন