সমাজকর্ম ২য় পত্র • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও সমাজকর্ম • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব 'ক' ৫ লক্ষ টাকার প্রত্যাশায় 'খ' কে বিয়ে করে। বিয়ের ২ মাস পর 'ক' টাকা না পেয়ে 'খ' কে মারধর করে। ফলে 'খ' বাবার বাড়ি চলে যায়।

  1. ক)

    বাল্যবিবাহ কী?

    (1)
  2. খ)

    অটিজম কেন সামাজিক সমস্যা?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের কোন সামাজিক সমস্যার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত সামাজিক সমস্যাটির সমাধানে সমাজকর্মীর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বয়সের (বাংলাদেশে মেয়েদের ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর) পূর্বে বিবাহ সম্পন্ন হওয়াকে বাল্যবিবাহ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অটিজম একটি বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা হলেও এটি সমাজের সামগ্রিক ভারসাম্য, পরিবারের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে একে সামাজিক সমস্যা হিসেবে গণ্য করা হয়। অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও যোগাযোগে সমস্যার সম্মুখীন হন, যার ফলে তাদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজকে বিশেষ দায়িত্ব নিতে হয়। সমাজে তাদের প্রতি সচেতনতার অভাব ও বৈষম্যমূলক আচরণও বিদ্যমান, যা সামাজিক সম্প্রীতি ব্যাহত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের 'যৌতুক প্রথা' (Dowry system) নামক সামাজিক সমস্যার কথা বলা হয়েছে।

    বিবাহের শর্ত হিসেবে কনেপক্ষ বা বরের পরিবারের পক্ষ থেকে অপর পক্ষকে যে অর্থ, সম্পত্তি বা বহুমূল্য উপহার দিতে বাধ্য করা হয়, তাকে যৌতুক বলা হয়। বাংলাদেশে যৌতুক একটি মারাত্মক ব্যাধি, যার সাথে পারিবারিক সহিংসতা এবং নারী নির্যাতনের ঘটনা গভীরভাবে জড়িত।

    উদ্দীপকে জনাব 'ক' ৫ লক্ষ টাকা প্রাপ্তির আশায় 'খ' কে বিয়ে করে এবং বিয়ের দুই মাস পর সেই টাকা না পেয়ে 'খ' এর ওপর শারীরিক নির্যাতন (মারধর) চালায়, যার ফলে 'খ' বাবার বাড়ি চলে যেতে বাধ্য হয়। বিবাহের শর্ত বা অর্থ আদায়ের দাবিতে স্ত্রীর ওপর এ ধরনের অত্যাচার যৌতুক প্রথার নির্মম বাস্তবতাকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত যৌতুক প্রথা ও তৎসংশ্লিষ্ট পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সমাধানে সমাজকর্মীর ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর ও বহুমাত্রিক। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. জনসচেতনতা সৃষ্টি: যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ—এ বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে সমাজকর্মী প্রচার-প্রচারণা, উঠান বৈঠক ও কর্মশালার আয়োজন করতে পারেন।
    ২. আইনি সহায়তা ও পরামর্শদান: যৌতুকের শিকার নারীদের 'যৌতুক নিরোধ আইন' ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের আওতায় আইনি সহায়তা ও আইনি পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে সমাজকর্মী সহায়তা করেন।
    ৩. পারিবারিক কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন: সংঘাতময় দাম্পত্য সম্পর্ক পুনর্গঠনে উভয় পক্ষকে নিয়ে মধ্যস্থতা ও কাউন্সেলিং প্রদান এবং নির্যাতিত নারীকে সামাজিক ও মানসিকভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য পুনর্বাসনে সহায়তা করা।
    ৪. নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা: নারীদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে সমাজকর্মী কাজ করেন, যা যৌতুকের দাবি প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে কাজ করে।

    সুতরাং, সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের সঠিক প্রয়োগে সহায়তা এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে যৌতুক প্রথা নির্মূলে সমাজকর্মী পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন