পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জয়া ৬ বছর ধরে ইতালি আছে। সে নিজ রাষ্ট্রে যে অধিকার ভোগ করে সেখানে সেইরকম অধিকার পায় না। সম্প্রতি সে দেশে এসেছে। সংসদ নির্বাচনে ভোটও দিতে পারবে। নিজ দেশে নানাবিধ অধিকার তার রয়েছে। তবে সে এটা জানে, অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
- ক)(1)
কর্তব্য কী?
- খ)(2)
রাজনৈতিক অধিকার কী?
- গ)(3)
একজন নাগরিক হিসেবে জয়া কী কী অধিকার ভোগ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর সম্পর্কযুক্ত' উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে নাগরিক হিসেবে ব্যক্তির যে সমস্ত দায়িত্ব পালন করা উচিত, তাকে কর্তব্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব অধিকারের মাধ্যমে নাগরিকেরা রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনায় পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে, সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। যেমন—ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার ইত্যাদি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একজন নাগরিক হিসেবে জয়া নিজ রাষ্ট্রে মূলত তিন ধরনের মৌলিক অধিকার ভোগ করে: নৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকার।
১. সামাজিক অধিকার: নিজ রাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা, জানমালের নিরাপত্তা পাওয়া, ধর্মীয় আচার পালন করা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার অধিকার সামাজিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। জয়া বিদেশে যে স্বাধীনতা বা সামাজিক সুযোগ-সুবিধা পায়নি, নিজ দেশে সে তা পরিপূর্ণভাবে লাভ করে।
২. রাজনৈতিক অধিকার: উদ্দীপকে উল্লেখ আছে জয়া দেশে এসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে। ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রমে গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার তার রাজনৈতিক অধিকারের অংশ।
৩. অর্থনৈতিক ও আইনগত অধিকার: নিজ দেশে সম্পত্তি অর্জন, ভোগ-দখল এবং আইনের আশ্রয় লাভের পূর্ণ অধিকার জয়ার রয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রে বিদেশি হিসেবে এসব অধিকার সীমিত হলেও নিজ রাষ্ট্রে একজন পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসেবে সে এসব অধিকার পরিপূর্ণভাবে ভোগ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর সম্পর্কযুক্ত'—উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ। অধিকার ও কর্তব্য মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠের মতো, এদের একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
প্রথমত, একজনের অধিকার অন্যের কর্তব্য। সমাজে একজন ব্যক্তির কোনো নির্দিষ্ট অধিকার তখনই নিশ্চিত হয়, যখন অন্য সবাই তার প্রতি যথাযথ কর্তব্য পালন করে। যেমন—জয়ার বেঁচে থাকার বা স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার কার্যকর থাকবে যদি অন্যরা তার নিরাপত্তায় বিঘ্ন না ঘটায়।
দ্বিতীয়ত, নিজের অধিকার ভোগ করার জন্য অন্যের অধিকারকে স্বীকার ও শ্রদ্ধা করতে হয়। আমি যেমন আমার মতপ্রকাশের অধিকার ভোগ করব, তেমনি অন্যের মতপ্রকাশের সুযোগ দেওয়া আমার অবশ্য পালনীয় কর্তব্য।
তৃতীয়ত, রাষ্ট্রের প্রদত্ত অধিকার ভোগ করার বিনিময়ে নাগরিককে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন, কর প্রদান, আইন মান্য করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা কর্তব্য পালন করতে হয়। নাগরিক যদি কেবল অধিকার ভোগ করতে চায় কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন না করে, তবে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।
উদ্দীপকেও জয়া সচেতনভাবে উপলব্ধি করেছে যে, ভোটদানসহ নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার পাওয়ার পাশাপাশি নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি তার অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
সুতরাং, অধিকারহীন কর্তব্য যেমন দাসত্বের শামিল, তেমনি কর্তব্যহীন অধিকার স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম দেয়। তাই অধিকার ও কর্তব্য অবিচ্ছেদ্য ও পরস্পর পরিপূরক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও