ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • আব্বাসীয় খিলাফত (৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১ : শাহ আব্বাস ছিলেন শাফাভী বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক প্রজাবৎসল, জনদরদী এই শাসক জনগণের অবস্থা স্বচক্ষে দেখার জন্য রাতের অন্ধকারে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন। জনসাধারণের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নতি সাধনে তিনি নিরলস কাজ করতেন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ তাঁর অন্যতম অবদান। এছাড়াও প্রজাদের পানীয় জলের সুবিধার জন্য অনেক খাল খনন করেন।
দৃশ্যকল্প-২ : জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চার জন্য ঢাকায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রাচীন গ্রন্থাবলি এখানে সংরক্ষণ করা হয় এবং জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিগণ সেগুলোকে অনুবাদের ব্যবস্থা করেন। এই প্রতিষ্ঠানটি নতুন নতুন গবেষণার কাজেও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে。
- ক)(1)
আব্বাসীয় কারা?
- খ)(2)
আবু মুসলিম খোরাসানি ইতিহাসে বিখ্যাত কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের শাহ আব্বাসের কর্মকাণ্ডের সাথে কোন আব্বাসীয় খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নয়নে আল-মামুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি আব্বাসীয় খিলাফতে এশিয়াটিক সোসাইটির তুলনায় বেশি অবদান রাখে—বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পিতৃব্য হযরত আব্বাস (রা.)-এর বংশধরগণ ইতিহাসে আব্বাসীয় নামে পরিচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবু মুসলিম খোরাসানি উমাইয়া খেলাফতের পতন ঘটিয়ে আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠার প্রধান রূপকার ও সমরনায়ক হিসেবে ইতিহাসে বিখ্যাত। তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সেনাপতিত্বে পরিচালিত সুসংগঠিত প্রচারণার ফলে খোরাসানসহ পূর্বাঞ্চলে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে সফল বিদ্রোহ সংগঠিত হয় এবং আব্বাসীয়রা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে। একারণে তাঁকে 'আব্বাসীয় রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা' বা মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ উল্লিখিত শাহ আব্বাসের কর্মকাণ্ডের সাথে আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের সাদৃশ্য রয়েছে।
শাহ আব্বাস যেমন প্রজাবৎসল শাসক ছিলেন এবং জনগণের প্রকৃত অবস্থা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণের জন্য রাতের আঁধারে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন, খলিফা হারুনুর রশিদও প্রজাদের সুখ-দুঃখের খোঁজ নিতে রাতের বেলা ছদ্মবেশে বাগদাদের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। এছাড়া উদ্দীপকের শাহ আব্বাসের মতো খলিফা হারুনুর রশীদও জনকল্যাণে প্রভূত অবদান রাখেন; তাঁর আমলে বহু খাল খনন করা হয় (যেমন নহরে যুবায়দা খাল খনন প্রকল্প হারুন ও তাঁর স্ত্রী যুবায়দার তত্ত্বাবধানে হয়) এবং বিভিন্ন জনহিতকর কাজ সম্পন্ন হয়। এই প্রজাদরদী মনোভাব, ছদ্মবেশে রাতের বেলা জনগণের খোঁজ নেওয়া এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে শাহ আব্বাসের সাথে খলিফা হারুনুর রশিদের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বাইতুল হিকমাহ' তৎকালীন বিশ্বসভ্যতা এবং ইসলামি রেনেসাঁয় যে বিশাল ভূমিকা রেখেছিল, আধুনিক এশিয়াটিক সোসাইটির তুলনায় তার ব্যাপ্তি ও অবদান ছিল অনেক বেশি বৈপ্লবিক—মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ণিত এশিয়াটিক সোসাইটি প্রাচ্যের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও প্রাচীন গ্রন্থাবলি অনুবাদ ও গবেষণায় একটি প্রাতিষ্ঠানিক অবদান রাখছে। কিন্তু ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আল-মামুন কর্তৃক বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত 'বাইতুল হিকমাহ' (জ্ঞানগৃহ) ছিল তৎকালীন বিশ্বের একক বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ, যা ছিল একাধারে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, অনুবাদ কেন্দ্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় মানের গবেষণাগার।
বাইতুল হিকমাহ-এর মাধ্যমে গ্রিক, ফারসি, ভারতীয় এবং সিরিয়াক ভাষার মূল্যবান বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক ও চিকিৎসা বিষয়ক গ্রন্থাবলি আরবিতে অনূদিত হয়। হুনাইন ইবনে ইসহাক, আল-খাওয়ারিজমি, আল-কিন্দি প্রমুখের মতো বিশ্বখ্যাত পণ্ডিতগণ এখানে জ্ঞানসাধনা করেছেন। এর ফলে প্রাচীন জ্ঞান শুধু সংরক্ষিতই হয়নি, বরং মৌলিক উদ্ভাবন (যেমন বীজগণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, আলোকবিজ্ঞান)-এর মাধ্যমে ইউরোপের মধ্যযুগীয় অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে বিশ্বজুড়ে বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের সূচনা করেছিল।
অতএব, এশিয়াটিক সোসাইটি একটি আঞ্চলিক বা নির্দিষ্ট পরিসরের গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান হলেও বাইতুল হিকমাহ বৈশ্বিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে এক যুগান্তকারী ও বহুগুণে বিস্তৃত অবদান রেখেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও