ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • প্রাক-ইসলামি আরব • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর তীরবর্তী রাস্তা অনেক উঁচু ও প্রশস্ত। কারণ বর্ষাকালে গড়াই নদীর পানি বেড়ে গিয়ে প্লাবন সৃষ্টি করে এবং জনসাধারণের চাষাবাদের সমস্যার পাশাপাশি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। তাই সরকার নদীর তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে এলাকাবাসীর দুর্দশা লাঘব ও কৃষির উন্নয়নে ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কুমারখালীর তাঁতশিল্পের বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুখ্যাতি রয়েছে। এছাড়াও মৃৎশিল্প, কুটিরশিল্পসহ ছোট বড় অনেক কলকারখানা এখানে গড়ে উঠেছে। যা দেশের অর্থনীতিতে গতিশীল ভূমিকা রাখছে।
- ক)(1)
'আইয়ামে জাহেলিয়া' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের গড়াই নদীর সাথে মিশরীয় সভ্যতার কোন নদীর সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের কুমারখালীর জনসাধারণের অর্থনৈতিক জীবনধারা মিশরীয়দের ন্যায় এক ও অভিন্ন— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আইয়ামে জাহেলিয়া' শব্দের অর্থ 'অজ্ঞতার যুগ' বা 'অন্ধকারের যুগ'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মরুভূমির তীব্র উত্তাপ, ধূলিঝড় এবং মাইলের পর মাইল বালুকাময় কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য উটের শারীরিক গঠন বিশেষভাবে উপযোগী। উট দীর্ঘ সময় পানি ও খাবার ছাড়া চলতে পারে এবং মরুভূমিতে মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের প্রধান বাহন হিসেবে কাজ করে। এজন্য উটকে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের গড়াই নদীর সাথে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার 'নীলনদ'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রাচীন মিশরে প্রতি বছর নীলনদে বন্যা হতো এবং বন্যার পানি নেমে গেলে জমিতে উর্বর পলিমাটি পড়ে কৃষিকাজে ব্যাপক সহায়তা করত। কিন্তু বন্যার অতিরিক্ত পানি কখনো কখনো প্লাবন ঘটিয়ে ফসলের ক্ষতি করত। তাই মিশরীয়রা বাঁধ নির্মাণ ও খালের মাধ্যমে নীলনদের পানি নিয়ন্ত্রণ ও সেচ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেছিল। এজন্য গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস মিশরকে 'নীলনদের দান' বলেছেন।
উদ্দীপকে গড়াই নদীর পানি বেড়ে গিয়ে প্লাবনের মাধ্যমে ফসলের ক্ষতি সাধন করে এবং পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়ন ঘটানো হয়। এই প্লাবন ও বাঁধ নিয়ন্ত্রণের সাদৃশ্যের কারণে গড়াই নদী প্রাচীন মিশরের নীলনদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কুমারখালীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বৈচিত্র্য প্রাচীন মিশরের মানুষের অর্থনৈতিক জীবনধারার সাথে গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রাচীন মিশরের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর হলেও তারা শিল্প ও বাণিজ্যেও অত্যন্ত উন্নত ছিল। মিশরীয়রা সূক্ষ্ম সুতি ও লিনেন বস্ত্র বয়নে পারদর্শী ছিল। তাদের তৈরি মাটির পাত্র বা মৃৎশিল্প, গহনা, আসবাবপত্র ও অন্যান্য হস্তশিল্প বিশ্বখ্যাত ছিল। কৃষি ও ক্ষুদ্র কুটিরশিল্পের মেলবন্ধনই ছিল তাদের সমৃদ্ধ অর্থনীতির চালিকাশক্তি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কুমারখালীর জনসাধারণের জীবনও কেবল নদীর ওপর নির্ভরশীল কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সেখানে বিখ্যাত তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প এবং নানা রকম কুটিরশিল্প গড়ে উঠেছে, যা অর্থনীতিকে গতিশীল রেখেছে। বস্ত্র ও মৃৎশিল্পের বিকাশ উদ্দীপক ও প্রাচীন মিশরীয় অর্থনৈতিক জীবনের অভিন্ন রূপ প্রকাশ করে। সুতরাং, উভয় ক্ষেত্রে কৃষিভিত্তিক সুরক্ষার পাশাপাশি টেক্সটাইল (তাঁত) ও কারুশিল্পের উপর অর্থনীতির নির্ভরতা লক্ষ্য করা যায় বলে মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও