যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: গণতন্ত্র না সমাজতন্ত্র। দৃশ্যকল্প-২:মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব। দৃশ্যকল্প-৩: শিক্ষক হন কর্মঠ, পথ প্রদর্শক ও দেশের মেরুদণ্ড।

  1. ক)

    যৌক্তিক সংজ্ঞা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    যৌস্তিক সংজ্ঞায় পদের প্রয়োজন কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এর মধ্যে তুলনামূলক সম্পর্ক পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করাকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক সংজ্ঞায় পদের প্রয়োজন, কারণ যৌক্তিক সংজ্ঞা সর্বদা একটি নির্দিষ্ট 'পদ' (Term)-এরই দেওয়া হয়, কোনো বস্তু বা ব্যক্তির নয়। যৌক্তিক সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থের মধ্যে নিহিত আবশ্যকীয় ও সাধারণ গুণাবলি, অর্থাৎ তার সম্পূর্ণ জাত্যর্থকে সুনির্দিষ্ট ও অর্থপূর্ণভাবে প্রকাশ করা। পদ ছাড়া সংজ্ঞেয় বিষয় ও সংজ্ঞার্থের পারস্পরিক সমতা নির্ধারণ করা যায় না বলেই যৌক্তিক সংজ্ঞায় পদের অস্তিত্ব অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ 'পরস্পরিব্যাপ্ত বিভাগ অনুপপত্তি' (বা যৌক্তিক বিভাগে অবিভাজ্য উপবিভাগ বা দ্বিকোটিক ভাগের বিভ্রান্তি) অথবা যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।

    যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো জাতিকে বিভিন্ন উপজাতিতে বিভক্ত করার সময় উপজাতিগুলো যেন পরস্পরবিবর্জিত বা পৃথক হয়। দৃশ্যকল্প-১ এ 'গণতন্ত্র না সমাজতন্ত্র' উল্লেখ করে একটি অপূর্ণাঙ্গ বিকল্প বা দ্বিকোটিক বিকল্প দেখানো হয়েছে, অথবা সংজ্ঞার আঙ্গিকে বিবেচনা করলে এটি কোনো পদের সংজ্ঞাই নয়। যদি একে যৌক্তিক সংজ্ঞা বিবেচনা করা হয়, তবে পদটির জাত্যর্থ উল্লেখ না করে অসম্পূর্ণ বিকল্প উপস্থাপন করায় তা সংজ্ঞার নিয়ম পরিপন্থী। তবে যুক্তিবিদ্যায় সাধারণত এটি দুটি ধারণাকে কৃত্রিমভাবে পরস্পরবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করার ভ্রান্তি বা যৌক্তিক বিভাগের অনুপপত্তির দিকটিই নির্দেশ করে। সংজ্ঞার দৃষ্টিকোণ থেকে এতে পদের অপরিহার্য জাত্যর্থ সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত থাকায় এটি সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি হিসেবে গণ্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এর তুলনামূলক সম্পর্ক যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়মানুযায়ী বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. দৃশ্যকল্প-২ এর মূল্যায়ন: দৃশ্যকল্প-২ এ বলা হয়েছে, "মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব।" এটি যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়মকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করেছে। যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম অনুসারে, কোনো পদের সংজ্ঞা দিতে হলে পদটির সম্পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হবে—কমও নয়, বেশিও নয়। মানুষের আসন্নতম জাতি হলো 'জীব' এবং বিভেদক লক্ষণ হলো 'বুদ্ধিবৃত্তি'। দৃশ্যকল্প-২ এ মানুষের জাত্যর্থের এই দুটি মৌলিক গুণকেই সঠিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে এটি একটি যথার্থ ও আদর্শ যৌক্তিক সংজ্ঞার দৃষ্টান্ত।

    ২. দৃশ্যকল্প-৩ এর মূল্যায়ন: দৃশ্যকল্প-৩ এ বলা হয়েছে, "শিক্ষক হন কর্মঠ, পথ প্রদর্শক ও দেশের মেরুদণ্ড।" এটি যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এখানে শিক্ষকের জাত্যর্থ বা বিভেদক লক্ষণ প্রকাশ না করে অতিরিক্ত গুণ এবং রূপক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে 'দেশের মেরুদণ্ড' কথাটি একটি রূপক অভিব্যক্তি। যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী, সংজ্ঞা সবসময় সহজ ও প্রাঞ্জল হতে হবে, কোনো রূপক বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। রূপক ভাষা ব্যবহারের কারণে এখানে 'রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' ঘটেছে। একই সাথে 'কর্মঠ ও পথ প্রদর্শক' শিক্ষকের নিজস্ব বা অতিরিক্ত অবান্তর লক্ষণ হওয়ায় এখানে সংজ্ঞার নিয়ম ক্ষুণ্ন হয়েছে।

    তুলনা ও সিদ্ধান্ত: দৃশ্যকল্প-২ যুক্তিবিদ্যার সংজ্ঞা-নিয়ম অনুসারে সম্পূর্ণ নির্ভুল ও যথার্থ সংজ্ঞা; পক্ষান্তরে দৃশ্যকল্প-৩ নিয়ম লঙ্ঘনজনিত কারণে 'রূপক সংজ্ঞা' ও অবান্তর গুণের মিশ্রণে একটি ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞায় পরিণত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন