মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ইথিকাকে প্রতিবেশীরা সবাই খুব ভালোবাসে। কেননা প্রতিবেশীর বিপদে সবার আগে সে এগিয়ে আসে। ইথিকার বাবা রশীদ সাহেব ফলপ্রসূ শিক্ষণের কৌশল নিয়ে গবেষণা করেন। একটা নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন যা সারা দেশের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। এছাড়া তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্য ছবির মাধ্যমে তুলে ধরে আনন্দ পান। তাছাড়া তিনি ক্ষমতার প্রয়োগ ও বিভিন্ন কাজে নেতৃত্ব দেয়া পছন্দ করেন।
- ক)(1)
Edward Spanger মূল্যবোধকে কয়ভাগে ভাগ করেছেন?
- খ)(2)
মূল্যবোধকে সমাজের চালিকা শক্তি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
ইথিকা কোন ধরনের মূল্যবোধের অধিকারী? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে রশীদ সাহেবের মধ্যে লক্ষ্যণীয় মূল্যবোধসমূহ আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এডওয়ার্ড স্প্রেঞ্জার (Edward Spranger) মূল্যবোধকে ৬ ভাগে ভাগ করেছেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচার-আচরণ ও চিন্তাভাবনা পরিচালনার অন্তর্নিহিত মানদণ্ড বা আদর্শ। এটি সমাজে বসবাসকারী মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, দায়িত্ববোধ, ন্যায়-অন্যায় বোধ এবং সামাজিক শৃঙ্খলাকে সুসংহত ও পরিচালিত করে। মূল্যবোধ ছাড়া সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি হয়। মূল্যবোধের ভিত্তিতেই সমাজের প্রতিটি সদস্য সঠিক পথে চলে এবং সমাজকে প্রগতির দিকে এগিয়ে নেয়; এজন্য মূল্যবোধকে সমাজের চালিকা শক্তি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ইথিকা 'সামাজিক মূল্যবোধ' (Social Values)-এর অধিকারী।
এডওয়ার্ড স্প্রেঞ্জারের মতে, যেসব ব্যক্তি সামাজিক মূল্যবোধের অধিকারী, তারা অন্যের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি, দয়া ও সেবামূলক আচরণে বিশ্বাসী হন। তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নিঃস্বার্থভাবে অন্যের উপকারে আত্মনিয়োগ করা এবং সমাজের কল্যাণ সাধন করা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রতিবেশীরা ইথিকাকে খুব ভালোবাসে কারণ প্রতিবেশীর যে কোনো বিপদে সে সবার আগে এগিয়ে আসে। অন্যের দুঃখে বা বিপদে নিঃস্বার্থভাবে পাশে দাঁড়ানো সামাজিক মূল্যবোধের সুস্পষ্ট প্রতিফলন। সুতরাং, ইথিকার আচরণে স্প্রেঞ্জারের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী সামাজিক মূল্যবোধ প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রশীদ সাহেবের মধ্যে এডওয়ার্ড স্প্রেঞ্জারের মূল্যবোধ শ্রেণিবিভাগের তিনটি রূপ লক্ষণীয়: তাত্ত্বিক মূল্যবোধ, নান্দনিক বা সৌন্দর্যবোধমূলক মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক মূল্যবোধ।
নিচে এগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. তাত্ত্বিক মূল্যবোধ (Theoretical Values): তাত্ত্বিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা সত্যের অনুসন্ধান, নতুন জ্ঞানার্জন এবং বৈজ্ঞানিক বা যুক্তিনির্ভর গবেষণায় নিয়োজিত থাকেন। উদ্দীপকে রশীদ সাহেব ফলপ্রসূ শিক্ষণের কৌশল নিয়ে গবেষণা করেন এবং একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যা সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। এটি তাঁর গভীর তাত্ত্বিক মূল্যবোধকে নির্দেশ করে।২. নান্দনিক বা সৌন্দর্যবোধমূলক মূল্যবোধ (Aesthetic Values): এই মূল্যবোধের অধিকারীরা রূপ, ছন্দ, সুষমা ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন এবং তা উপভোগ করেন। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে যে, রশীদ সাহেব প্রকৃতির সৌন্দর্য ছবির মাধ্যমে তুলে ধরে আনন্দ পান। এটি তাঁর নান্দনিক মূল্যবোধের পরিচায়ক।
৩. রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values): রাজনৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা ক্ষমতা, নেতৃত্ব, কর্তৃত্ব এবং অন্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করা পছন্দ করেন। উদ্দীপকে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, তিনি ক্ষমতার প্রয়োগ এবং বিভিন্ন কাজে নেতৃত্ব দেওয়া পছন্দ করেন। এটি তাঁর মাঝে রাজনৈতিক মূল্যবোধের উপস্থিতি প্রমাণ করে।
পরিশেষে বলা যায়, রশীদ সাহেব একই সাথে তাত্ত্বিক জ্ঞানসন্ধান, নান্দনিক সৃষ্টিশীলতা এবং নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা বা রাজনৈতিক মূল্যবোধের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও