সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
COS-এর পূর্ণরূপ লেখ।
- খ)(2)
সমাজকর্ম মূল্যবোধ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত প্রত্যয়টি দ্বারা কোন বিষয়টিকে বুঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত '?' প্রত্যয়টির কারণে পরবর্তীতে আধুনিক পেশাদার সমাজকর্মের বিকাশ ঘটেছে—বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
COS-এর পূর্ণরূপ হলো Charity Organization Society (চ্যারিটি অর্গানাইজেশন সোসাইটি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকর্ম মূল্যবোধ বলতে সমাজকর্ম পেশার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত এমন কিছু বিশ্বাস, আদর্শ, মানদণ্ড ও নীতিকে বোঝায়, যা সমাজকর্মীর আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে দিকনির্দেশনা প্রদান করে। মানুষের মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধা, আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, সমান সুযোগের নিশ্চয়তা, গোপনীয়তা রক্ষা ইত্যাদি সমাজকর্মের মৌলিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত প্রত্যয়টি দ্বারা 'শিল্প বিপ্লব' (Industrial Revolution)-কে বোঝানো হয়েছে।
অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে (আনুমানিক ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে) ইংল্যান্ডে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে উৎপাদন ব্যবস্থা, অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে কায়িক শ্রমের পরিবর্তে যন্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে যে সুদূরপ্রসারী ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকে শিল্প বিপ্লব বলা হয়।
উদ্দীপকের ছকে '১৭৬০ সাল থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যবর্তী সময়', 'সুদূরপ্রসারী ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন', 'সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিত সমাজকল্যাণ ধারার উদ্ভব' এবং 'সমাজকর্মের পেশাদার মর্যাদা অর্জন'—এই চারটি দিক নির্দেশ করা হয়েছে। এ সবগুলো বৈশিষ্ট্যই শিল্প বিপ্লবের সময়কাল ও ফলাফলের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। শিল্প বিপ্লবের ফলেই সনাতন সমাজকল্যাণের রূপ পরিবর্তিত হয়ে বিজ্ঞানসম্মত ও আধুনিক কল্যাণমূলক ধারার সূচনা হয়েছিল। সুতরাং, '?' চিহ্নিত প্রত্যয়টি হলো শিল্প বিপ্লব।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত '?' প্রত্যয়টি অর্থাৎ শিল্প বিপ্লবের কারণেই পরবর্তীতে আধুনিক পেশাদার সমাজকর্মের বিকাশ ঘটেছে—উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
শিল্প বিপ্লবের পূর্বে সমাজকল্যাণ মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক দানশীলতা, ধর্মীয় অনুপ্রেরণা এবং সনাতন বা সনাতন পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু শিল্প বিপ্লবের ফলে উৎপাদন ব্যবস্থায় যান্ত্রিকায়ন ও ব্যাপক নগরায়নের সূত্রপাত ঘটে। এর ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি সমাজে নানা রকম জটিল ও বহুমুখী সমস্যার সৃষ্টি হয়, যেমন—বস্তিসমস্যা, বেকারত্ব, শিশুশ্রম, শ্রমিক শোষণ, পারিবারিক ভাঙন, অপরাধপ্রবণতা এবং স্বাস্থ্যহীনতা।
ঐতিহ্যবাহী সনাতন সমাজসেবামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে এ সকল জটিল ও মনোদৈহিক সমস্যার সমাধান করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, সুসংগঠিত কর্মপন্থা এবং পেশাগত জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। শিল্প বিপ্লব-পরবর্তী এই আর্থ-সামাজিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ইংল্যান্ড ও পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দান সংগঠন সমিতি (যেমন: COS), বসতি স্থাপন আন্দোলন (Settlement Movement) এবং সমাজকল্যাণমূলক আইন প্রণয়ন করা হয়। এসব উদ্যোগের সমন্বয়ে একটি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ গড়ে তোলার তাগিদ দেখা দেয়, যা সমাজকর্ম শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর পথ সুগম করে।
পরিশেষে বলা যায়, শিল্প বিপ্লব একদিকে যেমন বহুমুখী সামাজিক সমস্যার জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে সেসব সমস্যার স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে সমাজকর্মকে একটি সাহায্যকারী কলা ও বিজ্ঞানভিত্তিক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। সুতরাং, শিল্প বিপ্লবের ফলেই আধুনিক পেশাদার সমাজকর্মের বিকাশ ত্বরান্বিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও