সমাজকর্ম ২য় পত্র • সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
সংস্থা কী?
- খ)(2)
“সামাজিক প্রতিষ্ঠান সর্বজনীন” – ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে কোন সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংস্থা (Association) হলো কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংগঠিত জনসমষ্টি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক প্রতিষ্ঠান সর্বজনীন—কারণ পৃথিবীর প্রতিটি মানবসমাজেই কোনো না কোনো রূপের সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বিদ্যমান।
মানুষের মৌলিক ও জৈবিক চাহিদা পূরণ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদে পরিবার, বিবাহ, অর্থনীতি, ধর্ম ইত্যাদির মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ওঠে। স্থান, কাল ও সমাজভেদে এদের রূপ বা কার্যপ্রণালিতে ভিন্নতা থাকলেও মানবজীবনের প্রতিটি পর্যায়ে ও বিশ্বের প্রতিটি সমাজেই এসব প্রতিষ্ঠানের অপরিহার্য উপস্থিতি রয়েছে। তাই সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে সর্বজনীন বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে 'গণমাধ্যম' (Mass Media) নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
গণমাধ্যম হলো সেই সকল মাধ্যম বা ব্যবস্থা যার সাহায্যে একই সাথে বহুসংখ্যক মানুষের কাছে সংবাদ, তথ্য, মতামত, শিক্ষা ও বিনোদন পৌঁছে দেওয়া যায়। উদ্দীপকের চিত্রে রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট এবং সংবাদপত্র—এই চারটি উপাদানের সমন্বয়ে '?' চিহ্নিত স্থানের সংযোগ দেখানো হয়েছে। এগুলোর প্রতিটিই গণমাধ্যমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান উপাদান বা বাহন।
রেডিও এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে অডিও-ভিজ্যুয়াল আকারে বার্তা প্রচারিত হয়, সংবাদপত্রের মাধ্যমে মুদ্রিত আকারে খবর ও বিশ্লেষণ মানুষের কাছে পৌঁছে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ সম্পন্ন হয়। সুতরাং, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট ও সংবাদপত্রের সমন্বিত রূপ হিসেবে উদ্দীপকে সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'গণমাধ্যম'-কেই নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধ ও সমাধানে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ গণমাধ্যমের (Mass Media) ভূমিকা অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জনসচেতনতা সৃষ্টি: যৌতুক, বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতন, শিশুশ্রম, মাদকাসক্তি প্রভৃতি সামাজিক সমস্যাগুলোর কুফল সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করতে সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন ও ইন্টারনেট ব্যাপকভাবে কাজ করে।
২. ইতিবাচক জনমত গঠন: গণমাধ্যম বিভিন্ন অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন ও আলোচনার মাধ্যমে দুর্নীতির বিস্তার, অপরাধ প্রবণতা বা সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ জনমত গড়ে তোলে, যা সমস্যা প্রতিরোধে চাপ সৃষ্টি করে।
৩. তথ্য ও শিক্ষার প্রসার: আধুনিক গণমাধ্যম, বিশেষ করে ইন্টারনেট ও টেলিভিশন নানা শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে জনগণের মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটায়, যা কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস দূর করতে সাহায্য করে।
৪. আইন প্রয়োগে সহায়তা: বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক অবিচার দ্রুত প্রচার করে গণমাধ্যম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করে বা সহযোগিতা করে।
৫. সামাজিক সমস্যা নিরসনে দিকনির্দেশনা: বিশেষজ্ঞ আলোচনা, টকশো ও সম্পাদকীয় কলামের মাধ্যমে গণমাধ্যম সমস্যার কারণ ও তা সমাধানের বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
পরিশেষে বলা যায়, গণমাধ্যম কেবল তথ্য সরবরাহই করে না, বরং সামাজিক অসঙ্গতি দূর করে একটি সচেতন, সুন্দর ও সমস্যাযুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও