সাহিত্য পাঠ • বিদ্রোহী • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
"তার চেয়ে পোষমানাকে অস্বীকার করোঅস্বীকার করো বশ্যতাকে।চলো শুকনো হাড়ের বদলে সন্ধান করি তাজা রক্তের।তৈরি হোক লাল আগুনে ঝলসানো আমাদের খাদ্য শিকলের দাগ ঢেকে দিয়ে গজিয়ে উঠুকসিংহের কেশর প্রত্যেকের ঘাড়ে।"
- ক)(1)
'বিদ্রোহী' কবিতা কবির কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
- খ)(2)
"আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য।" ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্য আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত কবির মনোভাব যেন 'বিদ্রোহী' কবিতার ভাবসত্যেরই সংহত রূপ" — মন্তব্যটি বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিদ্রোহী' কবিতাটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য" চরণটির মাধ্যমে কবি অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর তীব্র ক্রোধ ও ধ্বংসাত্মক রূপকে প্রকাশ করেছেন।
পৌরাণিক মুনি দুর্বাসা ছিলেন প্রচণ্ড ক্রোধী এবং অবিচারের বিরুদ্ধে অভিশাপ দানকারী। অন্যদিকে মহর্ষি বিশ্বামিত্র ছিলেন অনমনীয় তেজ ও সাধনার প্রতীক। কবি নিজেকে ক্ষ্যাপা দুর্বাসা এবং তেজস্বী বিশ্বামিত্রের শিষ্য বলে ঘোষণা করে বুঝিয়েছেন যে, সমাজের যেকোনো পরাধীনতা, অন্যায় ও শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে তিনি চরম ধ্বংসকারী ও আপসহীন রুদ্র রূপ ধারণ করতে দ্বিধাবোধ করবেন না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার পরাধীনতা ও বশ্যতা অস্বীকার করে তেজস্বী শক্তিতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার দিকটিতে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দাসত্ব ও পোষমানাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে সিংহের কেশর উঁচিয়ে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে দুর্বলতা ও আপসকামিতাকে পরিহার করে তেজ ও শক্তির সন্ধানের কথা বলা হয়েছে।
'বিদ্রোহী' কবিতাতেও কবি কাজী নজরুল ইসলাম ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার ডাক দিয়েছেন। কবি চির-উন্নত শির নিয়ে সকল অপশক্তি ও বশ্যতার বিরুদ্ধে একা দাঁড়িয়ে রুদ্র তাণ্ডবের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে প্রচণ্ড বিক্রমে বিদ্রোহ ঘোষণা করার এই দৃষ্টিভঙ্গিতে উদ্দীপকটি 'বিদ্রোহী' কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত কবির মনোভাব যেন 'বিদ্রোহী' কবিতার ভাবসত্যেরই সংহত রূপ"—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
উদ্দীপকে পরাধীনতা, হীনম্মন্যতা ও দাসত্ববৃত্তিকে ঝেড়ে ফেলে তেজস্বী সিংহবিক্রমে আত্মপ্রকাশের তীব্র প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। তথাকথিত নিরাপত্তা বা পোষমানা জীবনের চেয়ে আত্মসম্মানবোধে উজ্জীবিত হয়ে লড়াই করাকেই সেখানে শ্রেয় মনে করা হয়েছে।
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতার মূল ভাবসত্য হলো পরাধীনতা, শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামগ্রিক বিদ্রোহ এবং মানবমুক্তির বন্দনা। কবি আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে সমস্ত শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার সংকল্প করেছেন। তিনি অন্যায়ের কাছে নতজানু না হয়ে শির উন্নত রাখার ঘোষণা দেন এবং উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষান্ত না হওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেন। উদ্দীপকে শিকলের দাগ মুছে ফেলে সিংহের কেশর গজিয়ে ওঠার রূপকটি আসলে কবির চির-বিদ্রোহী ও তেজোদৃপ্ত মানসিকতারই একটি সংহত ও প্রতীকী প্রকাশ।
অতএব, আপসহীনতা, আত্মশক্তির উদ্বোধন এবং দাসত্বকে পদদলিত করে মর্যাদার সাথে মাথা তুলে দাঁড়ানোর যে আহ্বান উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে, তা মূলত 'বিদ্রোহী' কবিতার কেন্দ্রীয় বিদ্রোহী ভাবসত্যেরই একটি সংহত রূপ প্রকাশ করে। সুতরাং প্রদত্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও