সাহিত্য পাঠ • মানব-কল্যাণ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা) তায়েফে ইসলাম প্রচার করতে গেলে তায়েফবাসী তাঁর 'ওপর পাথর নিক্ষেপ করে তাঁকে রক্তাক্ত করে। কিন্তু এত অত্যাচার সহ্য করেও নবিজি তাদের ওপর প্রতিশোধ নেননি। বরং বলেছেন-"এদের জ্ঞান দাও প্রভু এদের ক্ষমা করো।"
- ক)(1)
কবির বুকে যে কবর বেঁধেছে তার বুক তিনি কী দিয়ে ভরেন?
- খ)(2)
"আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।"-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'প্রতিদান' কবিতার কোন বক্তব্যটি সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখো।
- ঘ)(4)
“একটি সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে 'প্রতিদান' কবিতার ভাবার্থ ও উদ্দীপকের ভাবার্থের সমন্বয়সাধন অপরিহার্য"-আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবির বুকে যে কবর বেঁধেছে, কবি তার বুক রঙিন ফুলের সোহাগ দিয়ে ভরিয়ে দেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চরণটির মাধ্যমে কবি জসীমউদ্দীন অনিষ্টকারীর প্রতিও পরোপকারী মনোভাব এবং অসীম ক্ষমার মহান আদর্শ প্রকাশ করেছেন। যে ব্যক্তি স্বার্থপরের মতো কবিকে দূরে ঠেলে দিয়ে পর করেছে, কবি তার প্রতি কোনো বিদ্বেষ বা শত্রুতা পোষণ না করে বরং তাকে একান্ত আপন করে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে কেঁদে ফেরেন। অর্থাৎ হিংসার বিপরীতে ভালোবাসার শক্তিকেই এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে জসীমউদ্দীনের 'প্রতিদান' কবিতার ক্ষমাশীলতা, অহিংসা এবং অপকারীর প্রতি উপকারের মহৎ বাণীটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি তাঁর চরম ক্ষতিসাধনকারীর প্রতিও ভালোবাসা ও শুভকামনা প্রদর্শন করেছেন। যিনি কবির ঘর ভেঙেছেন, কবি তার ঘর বাঁধেন; যিনি বিষ দিয়েছেন, কবি তাকে মধুর দান করেন। অর্থাৎ হিংসাকে প্রেম ও ক্ষমা দিয়ে জয় করাই কবির মূল বার্তা।
উদ্দীপকে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা) তায়েফবাসীর নির্মম পাথর নিক্ষেপ ও রক্তক্ষয়ী অত্যাচারে জর্জরিত হয়েও কোনো প্রতিশোধ নেননি। বরং তাদের ক্ষমা করে তাদের সুমতি ও জ্ঞানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন। নবিজির এই মহানুভবতা ও ক্ষমার আদর্শ 'প্রতিদান' কবিতার অপকারীর প্রতি প্রীতির আদর্শের সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি সুখী, শান্তিময় ও সুন্দর মানবিক সমাজ বিনির্মাণে 'প্রতিদান' কবিতার ভাবার্থ এবং উদ্দীপকের মহানুভবতার সমন্বয়সাধন একান্ত অপরিহার্য।
'প্রতিদান' কবিতার মূল বক্তব্য হলো হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতার বিপরীতে প্রেম, ক্ষমা ও নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের মহিমা প্রতিষ্ঠা করা। মানুষ যখন আঘাতের জবাবে আঘাত না দিয়ে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেয়, তখন প্রতিহিংসার চক্র ভেঙে যায়।
উদ্দীপকে রাসুলুল্লাহ (সা)-এর চরম ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্পষ্ট করে যে, প্রতিশোধপরায়ণতা দিয়ে কখনো শত্রুভাবাপন্ন হৃদয় জয় করা যায় না। মহানুভবতা, সহনশীলতা ও ক্ষমার মাধ্যমেই অন্ধকার দূর করে আলো জ্বালানো সম্ভব।
আজকের সমাজে হানাহানি, পরশ্রীকাতরতা ও পারস্পরিক হিংসা দূর করতে হলে প্রয়োজন নবিজির মতো ধৈর্য ও ক্ষমা এবং কবির মতো অনিষ্টকারীকে আপন করার ঔদার্য। এ দুই মহান দর্শনের সমন্বয় ঘটলে সমাজে ক্ষমা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য মানবিক সমাজ গঠনে এই দৃষ্টিভঙ্গির কোনো বিকল্প নেই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও