যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি বাক্সের ১৫টি মিষ্টির সবগুলোই একটা একটা করে খাওয়ার পর রাইমা বললো যে, প্রতিটি মিষ্টিই সুস্বাদু। অতএব, এইবাক্সের সকল মিষ্টিই সুস্বাদু।
- ক)(1)
সাদু সাদৃশ্যানুমান কী?
- খ)(2)
অবৈধ সামান্যীকরণ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের আরোহের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নির্দেশিত আরোহের সাথে বৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সাদৃশ্যানুমানে দুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সাদৃশ্য দেখিয়ে তাদের মধ্যে অন্য কোনো গুণের অস্তিত্ব অনুমান করা হয়, তাকে সাধু সাদৃশ্যানুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যথাযথ পর্যবেক্ষণ বা বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া এবং কোনো কার্যকর সম্পর্ক নির্ণয় না করে অতি দ্রুত বা সামান্য কয়েকটি দৃষ্টান্তে একটি বিষয় দেখে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাকে অবৈধ সামান্যীকরণ বলে। যেমন- দু-একজন ব্যবসায়ীকে অসৎ দেখে যদি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে 'সকল ব্যবসায়ী হয় অসৎ', তবে তা অবৈধ সামান্যীকরণ অনুপপত্তি ঘটাবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অপ্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ' (Perfect Induction)-এর ইঙ্গিত রয়েছে।
যে আরোহ প্রক্রিয়ায় একটি সার্বিক সিদ্ধান্তের অন্তর্গত প্রতিটি বিশেষ দৃষ্টান্তকে একে একে পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে।
উদ্দীপকে রাইমা একটি বাক্সের মোট ১৫টি মিষ্টির সবগুলোই একে একে খেয়ে দেখেছে এবং প্রতিটি মিষ্টিই সুস্বাদু পেয়েছে। এরপর সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, 'এই বাক্সের সকল মিষ্টিই সুস্বাদু'। যেহেতু বাক্সের মিষ্টির সংখ্যা নির্দিষ্ট বা সীমিত ছিল এবং রাইমা প্রতিটি মিষ্টিই ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে, তাই এটি পূর্ণাঙ্গ আরোহ। এতে জানা থেকে অজানায় গমনের মতো আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত আরোহটি হলো পূর্ণাঙ্গ আরোহ। নিম্নে পূর্ণাঙ্গ আরোহের সাথে বৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আরোহমূলক লম্ফ: বৈজ্ঞানিক আরোহের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আরোহমূলক লম্ফ, যেখানে জানা থেকে অজানায় পদার্পণ করা হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে প্রতিটি দৃষ্টান্ত পরীক্ষা করা হয় বলে এতে কোনো লম্ফ থাকে না।
২. কার্যকারণ সম্বন্ধ: বৈজ্ঞানিক আরোহ ঘটনার পেছনের কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে কার্যকারণ নিয়ম আবিষ্কারের কোনো প্রয়োজন হয় না, এটি কেবল নিরীক্ষণের ওপর নির্ভরশীল।
৩. প্রকৃতির একরূপতা নীতি: বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির একরূপতা নীতির ওপর বিশ্বাস রেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে প্রতিটি একক ঘটনা পরীক্ষিত হওয়ায় এই নীতির সাহায্যের দরকার পড়ে না।
৪. সিদ্ধান্তের রূপ ও বিস্তৃতি: বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি প্রকৃত সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য প্রতিষ্ঠা করে, যার সিদ্ধান্ত অসীম বা সীমাহীন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহের সিদ্ধান্ত একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ (যেমন: নির্দিষ্ট বাক্সের ১৫টি মিষ্টি)।
৫. শ্রেণীকরণ: যুক্তিবিদ মিলের মতে, বৈজ্ঞানিক আরোহ হলো 'প্রকৃত আরোহ', আর পূর্ণাঙ্গ আরোহ আরোহমূলক লম্ফের অভাবে 'অপ্রকৃত আরোহ'।
অতএব, পদ্ধতিগত গঠন ও মৌলিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ ও বৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও