জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ • Combined Board • যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বায়োম কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পার্থেনোকার্পির প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব আলোচনা করো ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' প্রাণীটি কোন ভৌগোলিক অঞ্চলের, তার বনভূমির ও প্রাণীর বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' চিত্রটির প্রজনন শৈলীর বৈচিত্র্যতা বন সৃজনে কি ভূমিকা পালন করে— বিশ্লেষন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নির্দিষ্ট জলবায়ু ও ভৌগোলিক পরিবেশ দ্বারা নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমন্বয়ে গঠিত বৃহৎ জীব সম্প্রদায় বা প্রাকৃতিক একককে বায়োম বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিষেকের সাহায্য ছাড়া বীজহীন ফল উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে পার্থেনোকার্পি বলে।

    প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব:
    ১. বীজহীন উন্নত মানের ফল (যেমন: কলা, আঙ্গুর, তরমুজ, কমলা ইত্যাদি) উৎপাদনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে ফলের ভোজ্য অংশ বাড়ে ও বাণিজ্যিক মান বৃদ্ধি পায়।
    ২. প্রক্রিয়াজাত খাদ্যশিল্পে (জুস, জ্যাম, জেলি তৈরিতে) বীজহীন ফলের ব্যবহার প্রক্রিয়াকে সহজ ও উন্নত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' চিত্রটি একটি ঘড়িয়াল (Gavialis gangeticus), যা ওরিয়েন্টাল (Oriental) প্রাণিভৌগোলিক অঞ্চলের অন্তর্গত।

    ওরিয়েন্টাল অঞ্চলের বনভূমির বৈশিষ্ট্য:
    ১. এ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি, পর্ণমোচী বা পত্রঝরা বন এবং উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনভূমি দেখা যায়।
    ২. এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ু বিদ্যমান থাকায় উদ্ভিদের ঘন ও বহুস্তরবিশিষ্ট আচ্ছাদন গড়ে ওঠে।
    ৩. শাল, সেগুন, বাঁশ, সুন্দরী ইত্যাদি অর্থনৈতিকভাবে মূল্যবান বৃক্ষের প্রাধান্য দেখা যায়।

    ওরিয়েন্টাল অঞ্চলের প্রাণীর বৈশিষ্ট্য:
    ১. স্তন্যপায়ী ও সরীসৃপ প্রাণীর প্রাচুর্য অত্যন্ত বেশি। ঘড়িয়াল, কুমির, বিভিন্ন জাতের বিষধর সাপ (যেমন- কেউটে, গোখরো) এ অঞ্চলের প্রধান সরীসৃপ।
    ২. এ অঞ্চলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এশীয় হাতি, একশৃঙ্গ গণ্ডার, মায়াহরিণ ইত্যাদি অনন্য স্তন্যপায়ী প্রাণী বাস করে।
    ৩. জলজ ও বনাঞ্চলীয় পাখির বৈচিত্র্য খুব বেশি (যেমন- ময়ূর, ধনেশ ইত্যাদি)।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'ক'-তে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম (Viviparous germination) প্রদর্শিত হয়েছে। সুন্দরী, গরান, গেওয়া ইত্যাদি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদে এই প্রজনন শৈলী দেখা যায়। ম্যানগ্রোভ বন সৃজন ও সম্প্রসারণে এর ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বৈরী পরিবেশে টিকে থাকা: ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল বা উপকূলীয় অঞ্চল অত্যন্ত লবণাক্ত এবং সেখানকার মাটি জোয়ার-ভাটার কারণে প্রায়ই কর্দমাক্ত ও অক্সিজেনহীন থাকে। সাধারণ বীজ মাটিতে পড়লে পচে যায় বা লবণাক্ততায় অঙ্কুরোদগম ব্যাহত হয়। জরায়ুজ অঙ্কুরোদগমে গাছে থাকা অবস্থাতেই বীজ থেকে ভ্রূণমূল ও ভ্রূণকাণ্ড সৃষ্টি হয়ে চারা উৎপন্ন হয়, যা প্রতিকূল পরিবেশ কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে।

    ২. দ্রুত ও কার্যকর স্থায়িত্ব লাভ: ফলটি মাতৃউদ্ভিদে যুক্ত থাকা অবস্থায় ভ্রূণমূলটি লম্বা ও ভারী হয়ে নিচে নেমে আসে। গাছ থেকে নিচে নরম কাদামাটিতে খাড়াভাবে পতিত হওয়ামাত্র তা তীরের মতো মাটির গভীরে গেঁথে যায়। জোয়ারের পানিতে ভেসে না গিয়ে দ্রুত নতুন শিকড় ছড়িয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

    ৩. নতুন উপকূলীয় দ্বীপ বা চরাঞ্চলে বনায়ন: যে সকল নতুন চরাঞ্চল বা পলিময় উপকূলে স্বাভাবিক বনায়ন সম্ভব নয়, সেখানে এই চারাসমূহ দ্রুত নোঙর ফেলে বন সৃষ্টি করে। সমুদ্র উপকূলীয় বাঁধ রক্ষা এবং প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে ম্যানগ্রোভ বন সৃজনে এই প্রজনন শৈলী মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

    অতএব, জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদকে উপকূলীয় প্রতিকূল পরিবেশে প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি অব্যাহত রেখে নতুন বন সৃজনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন