ভূগোল ২য় পত্র • জনসংখ্যা • Combined Board • ঢাকা, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' তিনদিকে ভারতবেষ্টিত দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত একটি দেশ। এটি জনসংখ্যার দিক থেকে ৮ম অবস্থানে রয়েছে। এ দেশের প্রচুর সংখ্যক লোক মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গমন করে।
- ক)(1)
অভিগমন কাকে বলে ?
- খ)(2)
কাম্য জনসংখ্যা বলতে কী বুঝায় ?
- গ)(3)
জনমিতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'ক' দেশের উপর উদ্দীপকে উল্লিখিত অভিগমনের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে মানুষ যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে, তখন তাকে অভিগমন বা অভিবাসন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের প্রাকৃতিক ও অন্যান্য সম্পদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় অর্জনে যে পরিমাণ জনসংখ্যা প্রয়োজন হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা (Optimum Population) বলে। কাম্য জনসংখ্যায় দেশের সম্পদের সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত থাকে। এই অবস্থার চেয়ে জনসংখ্যা বেশি হলে জনবহুলতা এবং কম হলে জনস্বল্পতা দেখা দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' দেশটি হলো বাংলাদেশ, কারণ এটি তিনদিকে ভারতবেষ্টিত এবং জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বে ৮ম অবস্থানে রয়েছে।
জনমিতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে বাংলাদেশে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী প্রবণতা প্রদর্শন করছে, তবে সামগ্রিক আকার এখনো অনেক বিশাল। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের প্রসার, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ফলে বর্তমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ১.১২%-১.২২% এ নেমে এসেছে। জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই হ্রাস পাওয়ার কারণে ডেমোগ্রাফিক ট্রানজিশন মডেল (জনমিতিক রূপান্তর তত্ত্ব) অনুসারে দেশটি বর্তমানে তৃতীয় বা রূপান্তরকালীন পর্যায়ে অবস্থান করছে। তবে বিশাল প্রজননক্ষম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে বৃদ্ধির হার কম হলেও প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ মোট জনসংখ্যার সাথে যুক্ত হচ্ছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' দেশ (বাংলাদেশ) থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানুষের গমন অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বহির্গমন (Emigration)-এর কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাবই বিদ্যমান।
১. ইতিবাচক প্রভাব:
- রেমিট্যান্স প্রবাহ: অভিবাসী কর্মীরা দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা (রেমিট্যান্স) পাঠান, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
- বেকারত্ব হ্রাস: দেশের বিপুল শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতা হ্রাস পায়।
- জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন: প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ পরিবারের সদস্যদের খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নত বাসস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে গ্রামীণ অর্থনীতির দৃশ্যপট বদলে দেয়।
- বিনিয়োগ ও অবকাঠামো: রেমিট্যান্সের অর্থ দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য, আবাসন ও অন্যান্য উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ হয়।
২. নেতিবাচক প্রভাব:
- মেধা পাচার (Brain Drain): উচ্চশিক্ষিত, দক্ষ চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরা উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপ বা পাশ্চাত্যে স্থায়ীভাবে পাড়ি জমালে দেশের দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি দেখা দেয়।
- সামাজিক সমস্যা: পরিবারের অভিভাবক দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করায় সন্তানদের সঠিক লালন-পালন ব্যাহত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ভাঙন দেখা দেয়।
অতএব, কিছু নেতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনে উদ্দীপকের বহির্গমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও