সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
তরুণ প্রজন্ম অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হচ্ছে। যেখানে তারা তাদের মতামত প্রকাশ ও সামাজিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছে। তবে একই সাথে সাইবার অপরাধ, ভুয়া খবর ও প্রযুক্তির প্রতি আসক্তির সমস্যাও বাড়ছে। গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন উন্নত ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ইন্টারনেট সংযোগ ও স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে মানুষের চিন্তাধারার বেশ পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এছাড়াও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজে অর্থ গ্রহণ-প্রদান করতে পারছে। এতে তাদের জীবনযাত্রার মান ও উন্নত হয়েছে।
- ক)(1)
ই-কমার্স কী?
- খ)(2)
“তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনছে”— ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের কোন উপাদানকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সামাজিক পরিবর্তনে উক্ত উপাদানের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ই-কমার্স (ইলেকট্রনিক কমার্স) হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বা সেবার ক্রয়-বিক্রয়, লেনদেন এবং তথ্য বিনিময়ের বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রথাগত শ্রেণিকক্ষ থেকে উন্মুক্ত ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে রূপান্তর করেছে। ইন্টারনেট, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহারের ফলে দূরশিক্ষণ, ই-বুক, ভিডিও লেকচার ইত্যাদির মাধ্যমে ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে শিক্ষালাভ আরও সহজলভ্য, গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের 'প্রযুক্তিগত উপাদান' (Technological factor) তথা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন। উদ্দীপকে ইন্টারনেট সংযোগ, স্মার্টফোনের ব্যবহার, অনলাইন সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মানুষের মানসিকতা, চিন্তাধারা, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রার মানে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রযুক্তি মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম ও অর্থনৈতিক লেনদেনকে সহজ করে সমাজজীবনে ইতিবাচক রূপান্তর ঘটিয়েছে, যা স্পষ্টভাবে প্রযুক্তিগত উপাদানকেই প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক পরিবর্তনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি তথা প্রযুক্তিগত উপাদানের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের দিকই বিদ্যমান।
প্রথমত, ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে প্রযুক্তি গ্রামীণ ও নাগরিক ব্যবধান কমিয়ে এনেছে। উদ্দীপকে উল্লেখিত মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, যার ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। এছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে তরুণ প্রজন্ম আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হচ্ছে এবং বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছে। অনলাইন যোগাযোগের ফলে মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তির অতিরিক্ত বা অসচেতন ব্যবহারের ফলে সমাজে নানারকম নেতিবাচক প্রভাবও পরিলক্ষিত হচ্ছে। উদ্দীপকে উল্লেখিত সাইবার অপরাধ, ভুয়া খবর বা গুজব ছড়ানো এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি যুবসমাজের সামাজিকীকরণকে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে তরুণদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, প্রযুক্তি একদিকে সমাজকে আধুনিকায়ন ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে তা সামাজিক সংহতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও