সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্মের সাথে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা এবং পেশার সম্পর্ক • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

মুন্নার বয়স ১৪ বছর। সে সমবয়সীদের সাথে ক্লাসে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অক্ষম হওয়ায় এবং বাড়িতে অস্বাভাবিক আচরণ করায় তাকে তার বাবা একজন মানসিক ডাক্তার দেখান। ডাক্তার বলেছেন মুন্নার বয়সের তুলনায় বুদ্ধি কম। তাই তাকে বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং চিকিৎসা করাতে হবে। মুন্নার বাবা মুন্নাকে একটি বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান। সেখানে একজন সমাজকর্মী মুন্নাকে স্বাভাবিক আচরণ করতে ও পড়াশোনা করতে সাহায্য করেন।

  1. ক)

    Anthrops শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক বিজ্ঞান ধারণাটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মুন্নাকে স্বাভাবিক আচরণ করতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে সমাজকর্মীকে কোন সামাজিক বিজ্ঞানের জ্ঞান সহায়তা দিতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে মুন্নার মতো দেশের অন্যান্য মানসিক প্রতিবন্ধীদের সমস্যা সমাধানে কোন সামাজিক বিজ্ঞানের জ্ঞান কীভাবে প্রয়োগ করা যায়? বুঝিয়ে লেখো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    Anthrops (বা Anthropos) শব্দের অর্থ মানুষ (Man বা Human)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক বিজ্ঞান হলো বিজ্ঞানের সেই শাখা যা মানবসমাজ, মানুষের সামাজিক আচরণ, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত ও প্রণালীবদ্ধ অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করে। সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ইত্যাদি সামাজিক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। এটি মানুষের সামগ্রিক সামাজিক জীবন ও সমস্যার স্বরূপ উদ্ঘাটনে সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মুন্নাকে স্বাভাবিক আচরণ করতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে সমাজকর্মীকে 'মনোবিজ্ঞান' (Psychology) বিষয়ের জ্ঞান সহায়তা দিতে পারে।

    মনোবিজ্ঞান হলো মানুষের আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক পাঠ। মানসিক ভারসাম্যহীনতা, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা বা আচরণগত জটিলতা অনুধাবন করতে মনোবিজ্ঞানের তত্ত্ব ও জ্ঞান অপরিহার্য।

    উদ্দীপকের মুন্নার বয়স ১৪ বছর হলেও তার বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বয়সের তুলনায় কম এবং সে পরিবার ও বিদ্যালয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করে। একজন সমাজকর্মী যখন তার সাথে কাজ করবেন, তখন মুন্নার মানসিক বিকাশজনিত ঘাটতি, আবেগীয় অবস্থা এবং অস্বাভাবিক আচরণের কারণ নিরূপণে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাকে স্বাভাবিক আচরণ শেখানো ও শিক্ষাদানে মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি সমাজকর্মীর দক্ষতাকে বৃদ্ধি করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মুন্নার মতো দেশের অন্যান্য মানসিক প্রতিবন্ধীদের সমস্যা সমাধানে 'মনোবিজ্ঞান' (Psychology) এবং 'সমাজবিজ্ঞান' বা 'চিকিৎসা সমাজবিজ্ঞান'-এর জ্ঞান অত্যন্ত কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়। মূলত মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান এখানে প্রধান নিয়ামক।

    নিম্নোক্ত উপায়ে এই জ্ঞান প্রয়োগ করা যেতে পারে:
    ১. বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) ও আচরণগত মূল্যায়ন: মনোবৈজ্ঞানিক অভীক্ষার মাধ্যমে মানসিক প্রতিবন্ধীদের মানসিক বয়স ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্তর পরিমাপ করে তাদের উপযোগী সেবা পরিকল্পনা করা যায়।
    ২. আচরণ পরিবর্তন ও পরিমার্জন (Behavior Modification): মনোবিজ্ঞানের আচরণ সংশোধন কৌশলের মাধ্যমে তাদের অস্বাভাবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ হ্রাস করে সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী আচরণ করতে শেখানো যায়।
    ৩. বিশেষ শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ: তাদের ধারণক্ষমতা অনুসারে ধাপে ধাপে দৈনন্দিন কাজ (যেমন—খাবার খাওয়া, পোশাক পরা, পরিচ্ছন্নতা) এবং সাধারণ জীবনমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায়।
    ৪. পারিবারিক ও সামাজিক কাউন্সিলিং: মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিবার যাতে তাদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করে, তার জন্য মনোবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়।

    অতএব, মানসিক প্রতিবন্ধীদের সার্বিক পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে একীভূতকরণের জন্য মনোবিজ্ঞানের নীতি ও পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন