বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • সামরিক শাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন (১৯৫৮-১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দ) • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
মৌলিক গণতন্ত্র কী?
- খ)(2)
'ছয় দফা আমাদের বাঁচার দাবি', বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে উচ্চারিত উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ছবি-২-এর সাথে ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহিদ আসাদের কার্যক্রমের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"ছরি-১, শহিদ আসাদ ও নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান"- যুক্তিসহ তোমার মতামত উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মৌলিক গণতন্ত্র হলো আইয়ুব খান ১৯৫৯ সালে প্রবর্তিত একটি পরোক্ষ নির্বাচনভিত্তিক শাসনব্যবস্থা, যেখানে জনগণ প্রথমে মৌলিক গণতন্ত্রী (ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য) নির্বাচন করত এবং তারাই রাষ্ট্রপতি ও আইনসভার সদস্য নির্বাচন করত।
- খ)
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি পেশ করেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা। পাকিস্তানি শাসনে বাঙালিরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছিল। এ বৈষম্য থেকে মুক্তির উপায় ছিল ছয় দফা। তাই তিনি একে বাঁচার দাবি বলেছেন। এই দাবি বাঙালির মুক্তি আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে।
- ঘ)
উক্তিটি যথার্থ। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁরা নিজের স্বার্থ নয়, দেশ ও জনগণের অধিকারের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন; তাই তাঁরা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। এখানে শহিদ আসাদ, নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছবি-১-এ প্রদর্শিত ব্যক্তি এই আত্মত্যাগী ধারারই প্রতিনিধি।
আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফার ভিত্তিতে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
১. আসাদের আত্মত্যাগ : ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ ২০শে জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে হরতালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যু আন্দোলনকে আরও বেগবান করে এবং ২৪শে জানুয়ারি আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
২. মতিউরের আত্মত্যাগ : ২৪শে জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির কিশোর ছাত্র মতিউর নিহত হয়। কিশোর বয়সেও সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল, যা অসামান্য সাহস ও দেশপ্রেমের প্রমাণ। তার মৃত্যুর পর ঢাকা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
৩. গণজাগরণে ভূমিকা : এই শহিদদের রক্ত জনগণকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে। ফলস্বরূপ আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং ছয় দফা ও ১১ দফার দাবি জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতার পথ সুগম করে।
৪. নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম : তাঁরা কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। এ নিঃস্বার্থতাই তাঁদের শ্রেষ্ঠ সন্তানের মর্যাদা দেয়।
সুতরাং, দেশের জন্য আত্মত্যাগের কারণে আসাদ, মতিউর ও ছবি-১-এর শহিদ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান- উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও