যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
অঙ্গগত বিভাগ কী?
- খ)(2)
যৌক্তিক বিভাগ কীভাবে যৌস্তিক সংজ্ঞা থেকে পৃথক?
- গ)(3)
ছক-৩ এ নির্দেশিত বিষয়টি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ছক-১ ও ছক-২ এর যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি সামগ্রিক বা মূর্ত বস্তুকে তার বিভিন্ন অঙ্গ বা অংশে বিভক্ত করাকে অঙ্গগত বিভাগ (Physical Division) বলে; যেমন— একটি মানুষকে হাত, পা, চোখ, মাথা ইত্যাদি অঙ্গে বিভক্ত করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক বিভাগ ও যৌক্তিক সংজ্ঞার মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ:
১. যৌক্তিক সংজ্ঞা হলো কোনো পদের জাত্যর্থের (গুণগত দিকের) সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি। পক্ষান্তরে, যৌক্তিক বিভাগ হলো কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থের (পরিমাণগত দিকের) উপজাতিসমূহে বিশ্লেষণ।
২. সংজ্ঞার ভিত্তি হলো আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ। কিন্তু বিভাগের ভিত্তি হলো কোনো নির্দিষ্ট মূলনীতি বা গুণ।
৩. সংজ্ঞায় কোনো পদের গুণগত প্রকৃতির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, আর বিভাগে কোনো সার্বিক বা বৃহত্তর শ্রেণিকে ক্ষুদ্রতর শ্রেণিসমূহে ভাগ করা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছক-৩ এ যুক্তিবিদ্যার 'দ্বিকোটিক বিভাগ' (Dichotomy)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
কোনো একটি শ্রেণিকে একটি নির্দিষ্ট গুণের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির ভিত্তিতে পরস্পর বিরুদ্ধ দুটি উপশ্রেণিতে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে দ্বিকোটিক বিভাগ বলে। এ পদ্ধতিটি মূলত গ্রিক দার্শনিক পিওফিরি প্রবর্তন করেন। এতে চিন্তার মৌলিক নিয়ম বিশেষ করে 'বিরোধ নিয়ম' ও 'নির্মধ্য নিয়ম' কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়।
উদ্দীপকের ছক-৩ এ দেখা যায়, 'ছাত্র' শ্রেণিকে মেধা গুণের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ভিত্তিতে প্রথমে 'মেধাবী' ও 'অমেধাবী'—এই দুটি পরস্পর বিরোধী উপশ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে 'মেধাবী' উপশ্রেণিকে ধন-সম্পদের উপস্থিতির ভিত্তিতে পুনরায় 'ধনী' ও 'অধনী'—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এভাবে প্রতিটি ধাপে একটি ইতিবাচক ও অন্যটি নেতিবাচক বা বিরুদ্ধ পদে বিভক্ত হওয়ায় এটি একটি সার্থক ও সুস্পষ্ট দ্বিকোটিক বিভাগ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছক-১ ও ছক-২ উভয়টিতেই যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘনজনিত কারণে ত্রুটি বা অনুপপত্তি ঘটেছে, ফলে বিভাগ দুটি যথার্থ নয়। নিম্নে এদের যথার্থতা মূল্যায়ন করা হলো:
১. ছক-১ এর মূল্যায়ন:
যৌক্তিক বিভাগের দ্বিতীয় নিয়ম অনুসারে, কোনো শ্রেণিকে বিভক্ত করার সময় অন্তর্ভুক্ত উপশ্রেণিগুলোর ব্যক্ত্যর্থের সমষ্টি মূল শ্রেণির ব্যক্ত্যর্থের সমান হতে হবে এবং উপশ্রেণিগুলো পরস্পর ব্যবর্তক বা ভিন্ন হতে হবে। ছক-১ এ 'পথ'কে সড়কপথ, রেলপথ, আকাশপথ, নৌপথ ও জলপথে ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে 'নৌপথ' এবং 'জলপথ' পরস্পর পৃথক কোনো শ্রেণি নয়; নৌপথ মূলত জলপথের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত। ফলে এখানে একই উপশ্রেণির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এবং উপশ্রেণিগুলো পরস্পর বিযুক্ত নয়। এতে যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘিত হয়ে বিভাগটি ত্রুটিপূর্ণ বা অযথার্থ হয়েছে।২. ছক-২ এর মূল্যায়ন:
ছক-২ এ 'সংগীত'কে নজরুল গীতি, লালন গীতি ও লোকগীতিতে বিভক্ত করা হয়েছে। যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, একটি বিভাগে একবারে একটিমাত্র মূলনীতি অনুসরণ করতে হয় এবং বিভাগগুলো পরস্পর বর্জনশীল হতে হয়। ছক-২ এ রচয়িতা/গীতিকারের নাম (নজরুল, লালন) এবং গানের ধরন/ধারা (লোকগীতি) এই দুটি ভিন্ন ভিত্তি একসাথে মেশানো হয়েছে। উপরন্তু, লালন গীতি মূলত লোকগীতিরই একটি অংশ। ফলে উপশ্রেণিগুলো পরস্পরকে বর্জন করতে পারেনি, যা পরস্পরব্যাপী বা সংকর বিভাগের দোষে দুষ্ট।সুতরাং, উপযুক্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বলা যায় যে, ছক-১ এবং ছক-২ কোনোটিই যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়নি, অর্থাৎ দুটি ছকই অযথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও