বিজ্ঞান • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
বিজ্ঞান প্রশ্ন
বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসার মান উন্নয়নে মানুষের জীবন বাঁচাতে আলোর প্রতিসরণের সাথে জ্যামিতিক হিসাবের মাধ্যমে দ্বিমাত্রিক ছবিগুলোকে ত্রিমাত্রিক করে রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র উদ্ভাবন করা হয়েছে। আবার অন্য একটি যন্ত্রের মাধ্যমে চিকিৎসকগণ বুকে ব্যথা, হার্ট-অ্যাটাকের মতো সমস্যার সমাধানকল্পে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
- ক)(1)
আইসোটোপ কাকে বলে?
- খ)(2)
কেমোথেরাপি কেন করানো হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম উদ্ভাবিত যন্ত্রটি মানব শরীরে কীভাবে কাজ করে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় যন্ত্রটি রোগ নির্ণয়ে কোনো ভূমিকা রাখে কি? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
একই পারমাণবিক সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন ভর সংখ্যাবিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুসমূহকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- খ)
ক্যান্সার আক্রান্ত দেহের কোষগুলো অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হয়ে বাড়তে থাকে। কেমোথেরাপিতে বিশেষ ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করে এই দ্রুত বিভাজনশীল ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করা হয় বা এদের বৃদ্ধি আটকানো হয়। তাই ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য কেমোথেরাপি করানো হয়।
- গ)
উদ্দীপকের প্রথম যন্ত্রটি হলো সিটি স্ক্যান (Computed Tomography), যা দ্বিমাত্রিক ছবি জুড়ে ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করে রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে।
কাজের ধারা: ১. রোগীকে যন্ত্রের মাঝে শুইয়ে দেওয়া হয়। এক্স-রে উৎস রোগীর দেহের চারপাশে ঘুরে বিভিন্ন কোণ থেকে দেহের ভেতর দিয়ে এক্স-রে পাঠায়।
২. দেহের বিভিন্ন টিস্যু (হাড়, মাংস, রক্তনালি, অঙ্গ) ভিন্ন মাত্রায় রশ্মি শোষণ করে। যন্ত্রের বিপরীত পাশের ডিটেক্টর সেই পার্থক্য মেপে নেয়।
৩. প্রতিটি কোণ থেকে পাওয়া তথ্য দিয়ে দেহের একেকটি পাতলা প্রস্থচ্ছেদের দ্বিমাত্রিক ছবি তৈরি হয়।
৪. কম্পিউটার জ্যামিতিক ও গাণিতিক হিসাবের মাধ্যমে এই অসংখ্য দ্বিমাত্রিক ছবি একত্র করে ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করে।
৫. চিকিৎসক সেই ছবি দেখে আঘাত, টিউমার, রক্তক্ষরণ বা অঙ্গের অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করেন।
এভাবে যন্ত্রটি দেহের ভেতরের অবস্থা নিখুঁতভাবে দেখে রোগ নির্ণয় করে।
- ঘ)
হ্যাঁ, উদ্দীপকের দ্বিতীয় যন্ত্রটি (ইসিজি) রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফ (ইসিজি) হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের সঙ্গে সৃষ্ট বৈদ্যুতিক সংকেত রেকর্ড করে একটি লেখচিত্র তৈরি করে।
১. হার্ট অ্যাটাক শনাক্তকরণ: বুকে ব্যথা হলে ইসিজি করে দেখা যায় হৃৎপিণ্ডের পেশিতে রক্ত সরবরাহ কমেছে কি না। করোনারি রক্তনালি জমাট বেঁধে বন্ধ হলে (করোনারি থ্রম্বোসিস) হৃৎস্পন্দনের লেখচিত্রে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।
২. হৃৎস্পন্দনের ছন্দ নির্ণয়: ইসিজিতে হৃৎস্পন্দনের হার ও নিয়ম অস্বাভাবিক কি না তা বোঝা যায়।
৩. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: এটি দ্রুত ও ব্যথাহীনভাবে করা যায়। তাই জরুরি অবস্থায় চিকিৎসক রোগীকে ওষুধ, হাসপাতালে ভর্তি বা অন্য পরীক্ষা (যেমন অ্যানজিওগ্রাম)—কী করবেন সে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
৪. সীমাবদ্ধতা: ইসিজি কেবল হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কর্মকাণ্ড দেখায়; অঙ্গের গঠন দেখতে চাইলে অন্য যন্ত্রের সাহায্য লাগে।
সুতরাং, দ্বিতীয় যন্ত্রটি হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য কার্যকর এবং এটি রোগ নির্ণয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও