বাংলা ১ম পত্র • মমতা-দি • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
অসুস্থ স্বামী ও সন্তান নিয়ে চরম অভাবের তাড়নায় দিশেহারা শেফালী। কোনো উপায় না পেয়ে পরের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ নেয় সে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করলেও গৃহস্বামীর সন্তুষ্টি নেই। কাজেই তাকে সহ্য করতে হয় বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি ও তিরস্কার। এমনকি বাড়ির ছেলে-মেয়েদেরও তার সাথে মিশতে দেয় না। গৃহস্বামীর ছোটে ছোটো ছেলেটিকেও কোলে নেওয়া নিষেধ। কেবল বেঁচে থাকার তাগিদে জলভরা চোখে সবই মেনে নেয় সে।
- ক)(1)
হরির লুট কী?
- খ)(2)
"বেশি আস্কার দিও না, জ্বালিয়ে মারবে"- কথাটি বলার কারণ কী? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের গৃহস্বামী ও 'মমতাদি' গল্পের গৃহকত্রীর বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“অবস্থানগত সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের শেফালী ও 'মমতাদি' গল্পের মমতাদির চেতনাগত বৈসাদৃশ্যও বিদ্যমান।"-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
হরির লুট হলো হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী হরির উদ্দেশে বাতাসা বা মিষ্টি ছড়িয়ে দেওয়া এবং উপস্থিত সবার তা কুড়িয়ে নেওয়ার অনুষ্ঠান।
- খ)
মমতাদি ছেলেটিকে জড়িয়ে ধরে আদর করছিল, এমন সময় মা এসে পড়েন। মা যদি ছেলেকে ডেকে নিতেন বা মুখ কালো করে সরে যেতেন, তাহলে মমতাদি অপমানিত বোধ করত এবং পরদিন থেকে হয়তো আর কাজেই আসত না। তাই মা কৌশলে হালকা সুরে বললেন, ‘বেশি আস্কারা দিও না, জ্বালিয়ে মারবে।’ কথাটির মধ্য দিয়ে মা মমতাদির স্নেহকে সম্মান জানিয়েছেন, তাকে সংকোচমুক্ত রেখেছেন এবং বুঝিয়েছেন যে গৃহকর্মী হলেও তাকে ছেলের সাথে মেশার মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। এতে মায়ের উদারতা ও সংবেদনশীল মনের পরিচয় মেলে।
- গ)
উদ্দীপকের গৃহস্বামী গৃহকর্মী শেফালীর প্রতি যে আচরণ করেন, 'মমতাদি' গল্পের গৃহকত্রী (ছেলেটির মা) মমতাদির প্রতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করেছেন; দুজনের মানসিকতার এই পার্থক্যই বৈসাদৃশ্যের মূল জায়গা।
'মমতাদি' গল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় গৃহকর্মীর প্রতি মানবিক আচরণের দিকটি তুলে ধরেছেন। গল্পের গৃহকত্রী প্রথম দিনেই মমতাদিকে ‘বোসো বাছা’ বলে কোমল স্বরে আপন করে নিয়েছেন। তাকে ছেলের সাথে মিশতে দিয়েছেন এবং ছেলেকে মমতাদির স্নেহ নিতে বাধা দেননি। মমতাদির স্বামীর চাকরি হলে তিনি বলেছেন, ‘আমরা তোমায় আটকে রাখব না… তোমার ওপর মায়া বসেছে।’ অর্থাৎ তিনি গৃহকর্মীর আত্মসম্মান ও কষ্ট বুঝেছেন।
অন্যদিকে উদ্দীপকের গৃহস্বামী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খাটিয়েও শেফালীর প্রতি সন্তুষ্ট নন। তিনি তাকে কটূক্তি ও তিরস্কার করেন, বাড়ির ছেলেমেয়েদের তার সাথে মিশতে দেন না, এমনকি ছোট ছেলেকেও কোলে নিতে নিষেধ করেন। এখানে গৃহকর্মীকে মানুষ হিসেবে নয়, শুধু শ্রমের উৎস হিসেবে দেখা হয়েছে।
সুতরাং, গল্পের গৃহকত্রী সহানুভূতিশীল ও মর্যাদাদানকারী, আর উদ্দীপকের গৃহস্বামী রূঢ় ও অমানবিক- এটিই তাদের বৈসাদৃশ্য।
- ঘ)
মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকের শেফালী ও 'মমতাদি' গল্পের মমতাদি পরিস্থিতির দিক থেকে একই সারিতে থাকলেও তাদের মানসিকতা ও আত্মমর্যাদাবোধে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
'মমতাদি' গল্পে অভাবের তাড়নায় ভদ্র ঘরের নারী মমতাদি স্বামীর চাকরি না থাকায় পর্দা ঠেলে রাঁধুনির কাজ নেয়। কিন্তু দারিদ্র্য তার আত্মসম্মানকে নত করতে পারেনি। উদ্দীপকের শেফালীও ঠিক একই অভাবের চাপে কাজ নেয়। এ জায়গায় দুজনের অবস্থানগত সাদৃশ্য।
১. অবস্থানগত সাদৃশ্য : দুজনেই নিম্নবিত্ত পরিবারের নারী। শেফালীর স্বামী অসুস্থ আর সন্তান আছে; মমতাদির স্বামী চার মাস বেকার, ঘরে একটি ছেলে। দুজনেই সংসার চালাতে অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মের কাজ নিতে বাধ্য হয়েছে।
২. শেফালীর নীরব আত্মসমর্পণ : শেফালী কটূক্তি, তিরস্কার ও সন্তানদের থেকে দূরে রাখার অপমান জলভরা চোখে মেনে নেয়। বেঁচে থাকার তাগিদে সে প্রতিবাদহীন; আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশের কোনো চিহ্ন নেই।
৩. মমতাদির আত্মমর্যাদাবোধ : মমতাদি দরিদ্র হলেও অপমান সইতে পারে না। পাঠ্যবই অনুযায়ী মা যদি খোকাকে সরিয়ে নিতেন, তবে সে পরদিন থেকে আর আসত না- পনেরো টাকার খাতিরেও নয়। আবার মায়ের করুণা ও দয়ামাখা সম্মানে সে চোখের জল ফেলেছে, কারণ তার আত্মসম্মানে তা আঘাত করেছে।
৪. স্নেহ দেওয়া ও নেওয়ার মানসিকতা : মমতাদি ছেলেটিকে ‘দিদি’ ডাকার অধিকার দেয়, আদর করে ও চেয়েছে সমান মর্যাদা। শেফালী সেই সুযোগ পায়নি, চায়ওনি।
সুতরাং, দারিদ্র্য ও গৃহকর্মের অবস্থানে দুজন একই হলেও মমতাদি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও সচেতন, আর শেফালী নীরব ও আত্মসমর্পিত- চেতনাগত এ বৈসাদৃশ্যের কারণেই মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও