কৃষিশিক্ষা • কৃষি উপকরণ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২০

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

অনিল বাবু চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তাঁর নিজস্ব পরিত্যক্ত ৩০ শতক পুকুরে মাছ চাষের সিদ্ধান্ত নিলেন। পুকুরটির পানির pH মান ৩- ৫। তিনি পুকুরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ চুন প্রয়োগ করে পুকুরটি মাছ চাষের উপযোগী করে তোলেন।

  1. ক)

    জু-প্লাংকটন কী?

    (1)
  2. খ)

    মাছ চাষের ক্ষেত্রে সূর্যালোকের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    অনিল বাবুর পুকুরে চুন প্রয়োগের পরিমাণ নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে অনিল বাবুর পুকুরের প্রয়োজনীয় কার্যাবলি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পুকুরের পানিতে ভাসমান অতি ক্ষুদ্র প্রাণিকণা, যা মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে কাজ করে, তাকে জু-প্লাংকটন বলে।

  2. খ)

    মাছ চাষে সূর্যালোকের গুরুত্ব অনেক। যে পুকুরে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পড়ে, সেখানে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। ফলে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য ফাইটোপ্লাংকটন বেশি উৎপাদিত হয় এবং ফাইটোপ্লাংকটনের ওপর নির্ভর করে জু-প্লাংকটনও বাড়ে। সালোকসংশ্লেষণের ফলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণও বাড়ে, যা মাছের বেঁচে থাকার জন্য জরুরি। এভাবে পর্যাপ্ত আলোতে মাছের খাদ্য ও অক্সিজেন বৃদ্ধি পেয়ে উৎপাদন বাড়ে। এ কারণে পুকুর ছায়াযুক্ত না হওয়া উচিত।

  3. গ)

    অনিল বাবুর পুকুরের পানির PHP^H মান ৩-৫, অর্থাৎ পানি অম্লীয়। পুকুর প্রস্তুতির সময় পানির PHP^H মানের ওপর ভিত্তি করে চুন প্রয়োগের মাত্রা পাঠ্যবইয়ে নির্ধারিত আছে। সেই ছক অনুযায়ী PHP^H ৩-৫ হলে প্রতি শতকে ১২ কেজি (পাথুরে) চুন প্রয়োজন।

    পুকুরের আয়তন = ৩০ শতক

    প্রতি শতকে চুনের পরিমাণ = ১২ কেজি

    সুতরাং মোট চুনের পরিমাণ = ৩০×১২৩০ \times ১২ কেজি = ৩৬০ কেজি।

    অর্থাৎ অনিল বাবুর পুকুরে ৩৬০ কেজি চুন প্রয়োগ করতে হবে। উল্লেখ্য, পাঠ্যবইয়ে সাধারণ অবস্থায় শতকে ১-২ কেজি চুন প্রয়োগের কথা বলা থাকলেও পানি অতিরিক্ত অম্লীয় (PHP^H ৩-৫) হওয়ায় বেশি মাত্রায় চুন দিতে হয়। এ চুন পানির PHP^H মান ঠিক রাখে, মাটি ও পানির উর্বরতা বাড়ায় এবং মাছের রোগবালাই দূর করে।

  4. ঘ)

    অনিল বাবুর পরিত্যক্ত পুকুরে মাছ চাষ লাভজনক করতে হলে তাঁকে পোনা মজুদের আগে, মজুদের সময় এবং মজুদের পরে ধারাবাহিক কিছু কাজ করতে হবে। তিনি ইতোমধ্যে চুন প্রয়োগ করে সঠিক কাজটি করেছেন, কিন্তু সফল চাষের জন্য আরও কাজ জরুরি।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী মাছ চাষের উপযোগী PHP^H ৬.৫-৮.৫ এবং PHP^H ৪-এর নিচে মাছ মারা যায়। অনিল বাবুর পুকুরের PHP^H ৩-৫ হওয়ায় চুন প্রয়োগ অপরিহার্য ছিল। এখন তাঁর প্রয়োজনীয় কার্যাবলি মূল্যায়ন করা হলো।

    ১. পুকুর প্রস্তুতি: পুকুর পরিত্যক্ত থাকায় আগাছা পরিষ্কার ও পাড় মেরামত করতে হবে। রাক্ষুসে মাছ (শোল, বোয়াল, গজার ইত্যাদি) ও অবাঞ্ছিত মাছ (পুঁটি, চাপিলা ইত্যাদি) পুকুর শুকিয়ে, জাল টেনে বা রোটেনন ব্যবহার করে দূর করতে হবে। কারণ এরা চাষের মাছের খাদ্য, জায়গা ও অক্সিজেনে ভাগ বসায়।

    ২. সার প্রয়োগ: চুন প্রয়োগের ৫-৭ দিন পর সার দিতে হবে। শতকপ্রতি শুকনো গোবর ৫-৭ কেজি, ইউরিয়া ১০০-১৫০ গ্রাম, টিএসপি ৫০-৭৫ গ্রাম ও এমওপি ২০ গ্রাম দিলে ফাইটোপ্লাংকটন ও জু-প্লাংকটন জন্মায়, যা মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য।

    ৩. পরীক্ষা: সেক্টিডিস্ক দিয়ে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমাণ এবং পানির বিষাক্ততা পরীক্ষা করে নিতে হবে, তারপর পোনা ছাড়তে হবে।

    ৪. পোনা মজুদ: ভালো পোনা বেছে নিয়ে প্রজাতি ও পরিমাণ ঠিক করে পোনা শোধন ও অভ্যস্তকরণের পর ছাড়তে হবে।

    ৫. মজুদ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা: নিয়মিত সার ও সম্পূরক খাদ্য দিতে হবে। মাসে একবার জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। রোগ দেখা দিলে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে হবে। শেষে উপযুক্ত সময়ে মাছ আহরণ করে বিক্রি করতে হবে।

    সুতরাং, অনিল বাবুর চুন প্রয়োগ সঠিক সূচনা হলেও পুকুর প্রস্তুতি থেকে মাছ আহরণ পর্যন্ত সব কাজ ধারাবাহিকভাবে করলেই তাঁর মাছ চাষ সফল ও লাভজনক হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন