বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • ভাষা আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
ধামশ্রেণি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার ৪ ছেলেই পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচনে আলাদা আলাদাভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। রফিকুল চেয়ারম্যানের শুভাকাঙ্কি বৃদ্ধ কসিমউদ্দিন ৪ ছেলেকে ডেকে বোঝান এবং ৪ ভাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে বড় ভাই সোহেলের নেতৃত্বে নির্বাচন করার পরামর্শ দেন। কসিমউদ্দিনের পরামর্শ মেনে চেয়ারম্যানের ছেলেরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করে জয়ী হন। এ ঐক্যবদ্ধতার শিক্ষাই তাদের পারিবারিক বন্ধন আরো সুদৃঢ় করে।
- ক)(1)
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের নকশাকার-কে ছিলেন?
- খ)(2)
ভাষা আন্দোলনে তমদ্দুন মজলিশের ভূমিকা কেমন ছিলো? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বৃদ্ধ কসিমউদ্দিনের পরামর্শের প্রভাব স্বাধীনতাপূর্ব বাংলার কোন নির্বাচনে দৃশ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উক্ত নির্বাচনে বিজয় বাঙালিদের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের নকশাকার ছিলেন হামিদুর রহমান।
- খ)
তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে গঠিত একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এটিই প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলে। তারা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা: বাংলা না উর্দু?’ নামে পুস্তিকা প্রকাশ করে। এ ছাড়া রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনে তারা উদ্যোগী হয়। এভাবে ভাষা আন্দোলনকে সংগঠিত করতে তমদ্দুন মজলিশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- গ)
বৃদ্ধ কসিমউদ্দিনের পরামর্শের প্রভাব স্বাধীনতাপূর্ব বাংলার ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন-এ দৃশ্যমান।
উদ্দীপকে চার ভাই আলাদাভাবে দাঁড়ালে ভোট ভাগ হয়ে যেত; ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়ে তারা জয়ী হন। ১৯৫৪ সালে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে এ কে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ বিরোধী দলগুলো মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। ঐক্যের কারণেই তারা নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পায়।
- ঘ)
উক্তিটি যথার্থ। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয় বাঙালিদের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
১. যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টিতে জয়ী হয় এবং ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। এতে বাঙালি বুঝতে পারে যে ঐক্যবদ্ধ হলে শক্তিশালী শাসকগোষ্ঠীকেও পরাজিত করা সম্ভব।
২. যুক্তফ্রন্টের ২১ দফায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল। বিজয়ের ফলে এসব দাবির প্রতি গণসমর্থন প্রমাণিত হয়।
৩. এই বিজয় বাঙালির রাজনৈতিক সচেতনতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং পরবর্তী আন্দোলনগুলোর পথ প্রশস্ত করে।সুতরাং, ১৯৫৪-এর বিজয় বাঙালির মনোবল ও সংগ্রামী চেতনা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও